সাম্প্রতিক শিরোনাম

পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ জেট ফাইটার নিয়ে সাম্প্রতিক কিছু রসাত্বক ভাবনা


বর্তমান সময়ে পঞ্চম প্রজন্মের সুপার স্টিলথ জেট ফাইটার ডিজাইন এবং তৈরিতে বিশ্বের আটটি দেশ যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, জাপান, তুরস্ক, ইরান, ভারত, দক্ষিন কোরিয়া এবং ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কিছু দেশ ব্যাপকভাবে কাজ করে গেলেও এখনো পর্যন্ত মাত্র তিনটি দেশই তাদের তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের স্টলিথ জেট ফাইটার আকাশে উড়াতে কিম্বা সার্ভিসে আনতে সক্ষম হয়েছে। আর এক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর রাশিয়া এবং চীন অনেকটাই সফল বলে মনে করা হয়। আর বাকী দেশগুলো এখনো পড়ে রয়েছে উন্নয়নের প্রাথমিক স্তরে।

hiastock

তবে আশ্চর্যের বিষয় বিশ্বের প্রথান স্থানীয় সুপার পাওয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একাই কিন্তু সেই নব্বই এর দশক থেকেই তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির তৈরি স্টিলথ জেট ফাইটার কিংবা বোম্বার বিশ্বের সামনে এনে অন্য যে কোন দেশের তুলনায় নুন্যতন পঞ্চাশ বছর এগিয়ে রয়েছে। তারা এখন গোপনে হয়ত ষষ্ঠ প্রজন্মের এরিয়াল এণ্ড এভিয়েশন টেকনোলজি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এখানে দেখার মতো একটি বিষয় হল যে, মার্কিন এয়ার ফোর্স তার বিমান বহরে এফ-১১৭ সার্ভিস এনে তা আবার অবসরে পাঠিয়ে দিয়েছে। সেখানে কিনা বিশ্বের অন্যান্য সব দেশ পঞ্চম প্রজন্মের জেট ফাইটার তৈরির একেবারেই প্রাথমিক স্তরেই রয়ে গেছে। তাছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টিলথ প্রযুক্তি সমৃদ্ধ বি-২ স্পিরীট সুপার বোম্বার, এফ-২২ র‍্যাপটার ও এফ-৩৫ লাইটনিং-২ সুপার স্টিলথ জেট ফাইটারগুলো কিন্তু এখনো পর্যন্ত বিশ্বের বুকে সক্রিয় থাকা যুদ্ধক্ষেত্রগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে যা বলার অপেক্ষা রাখে না। আসলে প্রায় ২.০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন বি-২ স্পিরিট সার্ভিসে আসে ১৯৯৭ সালে। অন্যদিকে ১৬৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এফ-২২ র‍্যাপটার সার্ভিসে আনা হয় ২০০৫ সালে এবং বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ১.৫৩ ট্রিলিয়ন ডলারের এভিয়েশন প্রজেক্টের আওতায় মার্কিন মাল্টিনেশন এফ-৩৫ জয়েন্ট স্টাইক লাইটিনিং-২ সর্ব প্রথম সার্ভিসে আসে ২০১৫ সালে। যা বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও যুক্তরাজ্য, ইসরাইল, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নরওয়েসহ বেশ কিছু দেশ এর ব্যবহার শুরু করে দিয়েছে।

আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, মার্কিন এফ-৩৫এ সিরিজের জেট ফাইটার সরাসরি সিরিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করে এর প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিশ্বের সামনে তুলে ধরছে ইসরাইলের এয়ার ফোর্স। অন্যদিকে, বিশ্বের অপর দুই সুপার পাওয়ার রাশিয়া এবং চীন তাদের নতুন প্রজন্মের এসইউ-৫৭ এবং জে-২০ নিয়ে এক দশক ব্যাপী ব্যাপক গবেষণা চালিয়ে অনেকটা সীমিত পরিসরে সার্ভিসে আনার বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার করে গেলেও সরাসরি কোন যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যাবহার এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের যথেষ্ঠ অবকাশ থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে রাশিয়া তাদের বেশ কিছু এসইউ-৫৭ স্টিলথ জেট ফাইটার সিরিয়ার একাধিক ব্যাটল ফিল্ডে পরীক্ষার বিষয়টি মিডিয়ার সামনে বার বার তুলে ধরলেও সিরিয়ায় আসলে কোন বিমান বাহিনী বিহীন এবং অদক্ষ আসাদ বিরোধী হালকা অস্ত্রধারী মিলিশিয়া গ্রুপের বিরুদ্ধে এসইউ-৫৭ এর মতো ডেডিকেটেড পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ জেট ফাইটারের কোন কার্যকারতা প্রমানের আদৌ কোন সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। এদিকে চীন তার সুপার স্টিলথ জেট ফাইটার জে-২০ তে সেই আশির দশকের সভিয়েত আমলের ইঞ্জিন লাগিয়ে বাদুর মার্কা এক জেট আকাশে উড়িয়ে বিশ্বের বুকে হাস্য রসের খোরাক জুগিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া চীন এবং রাশিয়া যেভাবে একেবারেই উম্মুক্তভাবে জেট ইঞ্জিন তাদের এসইউ-৫৭ এবং জে-২০ তে ইন্সটল করেছে তাতে তো এমনিতেই উড্ডয়নরত অবস্থায় শত্রু পক্ষের রাডারে জেট ইঞ্জিনগুলো হীট সিকনেচার হয়ে যাওয়ার কথা।

গুগল এডস

যা হোক রাশিয়া কিংবা চীন কেউ কিন্তু আজ অব্ধি বৈশ্বিক পর্যায়ের কোন ডিফেন্স এক্সপ্রো যেমন দুবাই বা মালেয়শিয়ায় অনুষ্ঠিত ডিফেন্স এক্সপ্রো মেলায় কিম্বা কোন সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে কোন রকম প্রমান না দিয়েই নিজস্ব মিডিয়াকে ব্যবহার করে অপপ্রচার এবং প্রপাগাণ্ডার উপর ভর করে সুপার ডুপার পাওয়ারফুল স্টিলথ জেট ফাইটার সার্ভিসে আনার বিষয়টি বিশ্বের সামনে তুলে ধরছে। অথচ তারা এখনো ঠিক ভাবে নিজেরাই সার্ভিসে আনতে পারল না অথচ বিভিন্ন দেশর কাছে উচ্চ মূল্যে বিক্রির দেন দরবার শুরু করে দিয়েছে। এদিকে বিশ্বের আরেক পরাশক্তি আছে নাম বলা যাবে না, সে আবার শতভাগ স্টিলথ প্রযুক্তি সমৃদ্ধ কা-৪২০ বা অন্য কোন নামে জেট ফাইটারের কিছু ছবি এবং ইউটিউব ভিডিও দেখিয়ে বিশ্বকে বোকা বানাচ্ছে। তবে এটা ঠিক যে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির এই সুপার জেট ফাইটার ১০০% স্টিলথ এবং বিশ্বের কোন রাডারই একে কিন্তু সনাক্ত করতে পারবে না। কারণ এটা আজ অব্ধি রানওয়েতে রশি দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া ছাড়া আকাশে উড্ডয়নের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে মনে হয় না। আর আকাশে যদি না উড়ে তাহলে শত্রু পক্ষের কোন রাডারের ক্ষমতা আছে কি একে সনাক্ত করার?


লেখকঃ সিরাজুর রহমান

সর্বশেষ খবর

জনপ্রিয় খবর

hiastock