সাম্প্রতিক শিরোনাম

ব্রিজের কাছে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন, বালুর স্তুপে ঢাকা পরেছে ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ

ব্রিজের কাছে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বালুর স্তুপে ঢাকা পরেছে ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ঝুকির মুখে ব্রিজের অস্তিত্ব।

hiastock

শমিত জামান – ঈশ্বরদীর পাকশীতে ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলন করে পাহাড় সমান স্তুপ করে চলেছে রমরমা বালুর ব্যবসা। বর্ষা মৌসুমে বালুর স্তুপের কারনে পদ্মা নদীর স্্েরাত বাধাগ্রস্থ ও নদীর গতি পথ পরিবর্তন হয়েছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছেই ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করার ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সেতু এবং সেতুর নিরাপত্তার জন্য নির্মিত গাইড ব্যাংক।

পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নদীর পাড় ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। জানা যায় পদ্মা নদীর এই বিশাল এলাকায় কৃষি কাজের জন্য লীজ গ্রহিতা কৃষকদের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে সেখানে বালুর ব্যবসা চলছে। শর্তবর্ষী ঐতিহ্যাহী ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেল সেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এবং লালন শাহ সেতেুর কাছ থেকে বালু উত্তোলন করায় ব্রীজ ২টির অস্তিত্বের জন্য হুমকি ও ঝুকিপূর্ণ হওয়ার পরেও থেমে নেই বালু উত্তোলন। বালুর স্তুপ বড় হতে হতে এখন বালুর স্তুপের আড়ালে ঢাকা পরেছে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু।

গুগল এডস

রেল সুত্রে ও স্থানীয় জনগণ জানান রেলের লীজ নেওয়া কৃষি জমিতে বাণিজ্যিক ভাবেই চলছে বালুর ব্যবসা। স্থানীয় সরকার দলীয় এক নেতার আত্মীয় স্বজন প্রতিদিন টাকা উঠানো সহ এই ব্যবসার যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। বালু ব্যবসায়ীরা জানান তারা এই সকল জমি ভাড়া নিয়ে বালু উত্তোলন করে স্তুপ করে বিক্রি করছে। প্রতিদিন ঈশ^রদী পদ্মানদীর ৪টি ঘাটে গড়ে প্রায় ১ হাজার ট্রাক বালু বিক্রি হয়। এরই সঙ্গে ট্রাক প্রতি ১ হাজার টাকা হিসাবে এসব ঘাট ও বালু মহল থেকে দৈনিক ১ লাখ টাকা চাঁদা আদায় হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী সরকার দলীয় নেতা নিজেই টাকা ভাগ করেন বলে জানা গেছে।

বালুমহল ঘুরে দেখা যায় নিদৃষ্ট বিরতীতে ট্রাক্টর, ট্রাক আসছে। বালু বোঝায়ের পর নিদৃষ্ট ব্যক্তির হাতে চাঁদা দিয়ে বালুর ট্রাক চলে যাছে। প্রায় ৩ মাস আগে ঈশ^রদী উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এই বালুমহলে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে তাৎক্ষনিক বালু জব্দ ও নিলাম করে। পাকশী ইউপি চেয়ারম্যান এনাম বিশ^াস এই নিলামের মাধ্যমে বালু কিনে নেয়। এ সময় ১ মাসের মধ্যে বালু বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়। নিলামের এই কাগজের জোরে তখন থেকেই প্রতিদিন শতশত ট্রাক বালু বিক্রি হলেও বালুর মজুত কখোনই শেষ হয় না। পাকশী ইউপি চেয়ারম্যান এনাম বলেন হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে বালুর স্তুপ করা হলেও এখান থেকে কোন বালু উত্তোলন করা হচ্ছে না। এসব বালু কুষ্টিয়া, আলাইপুর, পাবনা সহ বিভিন্ন ঘাট থেকে নৌকাযোগে বালু এনে স্তুপ করে রাখা হয় এবং বিক্রি করা হয়। চেয়ারম্যান এনাম বিশ্বাস ঈশ্বরদীর ৪টি ঘাটে প্রতিদিন ৫-৬ শত ট্রাক বালু বিক্রি হয় বলে জানান।

রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় সেতু প্রোকৌশলী আরিফুল ইসলাম বালু ব্যবসা প্রসঙ্গে বলেন, আমি পাকশীতে নতুন এসেছি সবকিছু জেনে পরে জানাবো। পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা নুরুজ্জামান বলেন ব্রিজের কাছে যে জমিতে বালুর পাহাড় সে জমি রেলের। স্থানীয় কৃষকরা বছর ভিত্তিতে এসব জমি লীজ নিয়ে কৃষি কাজ করে থাকেন তবে এখন সেখানে বালুর ব্যবসা হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ এ সব জমির কৃষি লীজ বাতিল করে বাণিজ্যিক লীজ প্রদানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

ইউএনও ঈশ^রদী শিহাব রায়হান জানান ইতিপূর্বে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ব্রিজের নিকট স্তুপ করা বালু জব্দ করে নিলামে বিক্রি করে ছিল এবং অবশিষ্ট বালু ১ মাসের মধ্যে বিক্রির আদেশ দিয়েছিল। এখন যদি বালু ব্যবসায়ীরা ব্যবসা চলমান রাখেন তাহলে সরোজমিন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর

জনপ্রিয় খবর

hiastock