সাম্প্রতিক শিরোনাম

হ্যাঁ, দেশটি আওয়ামী লীগের’ই, মুখে বললেই দেশ আপনাদের হয়ে যাবে?

আজকের মাওলানা বাবুনগরী কিংবা মামুন গংরা দেশের জন্য ভালোবাসা দেখিয়ে ভাস্কর্য বিরোধী নানান বক্তব্য দেয়। ইসলাম প্রীতি তাদের সেই’দিন কোথায় ছিলো? যখন তাদেরই পিতারা বা পরিবারের সদস্যরা পাকিস্তানের দোসর হয়ে দেশের মুসলিমদের হত্যা করতো। হত্যা করে তাদেরই নামকরা পিতারা। কই মামুন গংরা তো রাজাকার সাইদী বা গোলাম আজমের বিচার চায়নি। তারা তো চায়নি সেসময়ের মুসলিম গনহত্যার বিচার।

hiastock

তাহলে স্বাধীনতার এতো বছর পরে এসে তারা কিভাবে ইসলাম প্রীতি নিয়ে আছে? মন্তব্য করে? তারা কি ভুলে গেছে, এই আওয়ামী লীগই একাত্তরে লড়েছিলো হিন্দু মুসলিমদের হয়ে। সেই আওয়ামী লীগই বাংলাদেশ এনে দিয়েছিলো। এই আওয়ামী লীগই জানে যে স্বাধীনতা নিজেরা এনে দিয়েছে সে স্বাধীনতা কিভাবে আবার রক্ষা করতে হয়, কিভাবে ইসলামকে রক্ষা করতে হয়।

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইতিহাস আর বাংলাদেশের ইতিহাস ওতোপ্রোতভাবে একে অপরের সাথে জড়িত। আওয়ামী লীগ সৃষ্টির উদ্দেশ্য বলা যায় এক কথায় বাংলার উত্থান। ঐতিহাসিক ২৩ জুন ১৭৫৭ সনে পলাশীর আম্রকাননে বাংলার স্বাধীনতার লাল সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাগণ দলের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের দিন হিসেবে ইতিহাস থেকে ২৩ জুন তারিখটি বেছে নিয়েছিলেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আওয়ামী লীগ ইতিহাস সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক দল। যার হাত ধরে বাংলাদেশ নিজেদের ভাষা, মাটি এবং স্বাধীনতাকেও ছিনিয়ে আনে। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলনের বীজ রোপিত হয়েছিল এবং বায়ান্নের মহান ভাষা আন্দোলনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দিয়েছিল। যদিও আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার আগেই ’৪৮-এর জানুয়ারির ৪ তারিখে প্রাণপ্রিয় ছাত্রপ্রতিষ্ঠান ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

একই বছরের ১১ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের উদ্যোগে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রদেশব্যাপী সফল ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। মাত্র ২০ মাসের রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়ে চরম খাদ্যাভাব ও দুর্ভিক্ষ থেকে বাঙালি জাতিকে রক্ষা করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকার যে সফলতা অর্জন করে তাতে জনগণের কাছে দলটির জনপ্রিয়তা বহু গুণ বেড়ে যায়। সে সময় মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করে জনগণের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করেন।

 

এরপর আইয়ুব খানের এক দশকের স্বৈরশাসন-বিরোধী আন্দোলন, ’৬২ ও ’৬৪-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৪-এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধ, ’৬৬-এর ঐতিহাসিক ৬-দফা আন্দোলন, ’৬৮-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৬-দফাভিত্তিক ’৭০-এর নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” খ্যাত কালজয়ী ভাষণ ও পরবর্তীতে পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন।

২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যার পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি স্বাধীন জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্যই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তি। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ধাপে ধাপে তিনি স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে পৌঁছেছিলেন।

কিন্তু আজ, সাধারন ভাবেই অনেকে প্রশ্ন তুলে ফেলেন, দেশটি কি আওয়ামী লীগের? আওয়ামী লীগের বাপের? হ্যাঁ, তা তো অবশ্যই। দেশটি আওয়ামী লীগের আর দেশটি আওয়ামী লীগের’ই সম্পত্তি। যে জামায়াতে ইসলাম আজ দেশের জন্য ভালোবাসা দেখাচ্ছে, দেশে রাজনীতি করছে তারা সহজ কথায় এই নামের সেই দলটিই সেদিন ৩০ লক্ষ মুসলিম প্রধান দেশের মুসলিম হিন্দুকে হত্যা করতে সহায়তা করে ও হত্যা করে।

সে’ই তারাই সেদিন এই মুসলিম প্রধান দেশের মুসলিম মা বোনদের ধর্ষণে সহায়তা করে। সেদিন তাদের ইসলাম কোথায় ছিলো? আজ বঙ্গবন্ধু বিরোধী স্লোগান দিতে পিছপা হচ্ছেনা তারা। সে’ই একাত্তরের মত আওয়ামী লীগকে আবার নাস্তিক বলে প্রেরনা দিচ্ছে সবাইকে। বলছি, ৭১ এ আপনাদের বাবা দাদারা সত্যিই দেশের কল্যানে বা অকল্যানে কি ভূমিকা রেখেছিলো জানেন তো?

কাকরাইল মসজিদের জায়গা কে বরাদ্দ দিয়েছিলেন? বঙ্গবন্ধু। বিশ্ব ইজতেমার ময়দান কে করে দিয়েছেন? বঙ্গবন্ধু। ‘ইসলামী ফাউন্ডেশন’ কে প্রতিষ্ঠা করেছেন? বঙ্গবন্ধু।বাংলাদেশ’ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ -এ কথা কে বলেছেন? বঙ্গবন্ধু। ইসলামে হারাম ‘মদ – জুয়া – দেহ ব্যবসা’ রাষ্ট্রীয় ভাবে নিষিদ্ধ করেছিলেন কে? বঙ্গবন্ধু। কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের কার্যক্রম শুরুর আইন করেছেন কে? বঙ্গবন্ধু। ধর্ম নিরপেক্ষ সংবিধানের দেশে তিনি চাইলে কি পারতেন না এই সব না করেও সম্পূর্ন ফ্রান্সের মত সেক্যুলার দেশ গড়তে? বঙ্গবন্ধু বলেন, ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। সকল প্রশ্নের জবাব তিনিই দিয়ে গিয়েছিলেন।

মুখে বল্লেই দেশ আপনাদের হয়ে যাবে?

সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ এর মধ্যে একজনও হুজুর নাই। আটষট্টিজন বীরউত্তমের মধ্যে একজনও মাওলানা নাই। ১৭৫ জন বীরবিক্রমের মধ্যে একজন মুফতি নাই। ৪২৬ জন বীরপ্রতীকের মধ্যে একজনও আন্তর্জাতিক খ্যাতি-সম্পন্ন মুফাচ্ছের নাই। তবে দুইজন মহিলা আছেন! দেশ কে স্বাধীন করতে কত ধরণের মুক্তি বাহিনী গঠিত হয়েছে! কিন্তু একজন হুজুরের নেতৃত্ব ০৫-১০ জন মাদ্রাসার ছাত্র নিয়ে কোন প্রতিরোধ যুদ্ধের নজির পাওয়া যায়নি।
বরং নজির পাওয়া গেছে পাকিস্তানি কর্তৃক বাংলার মা বোনদের ধর্ষনে সহযোগিতায়।

আজ আমাদের কিছু নামধারী ওলামা মাইকে দেশপ্রেমের বুলি ঝাড়ছেন। অথচ তারাই তালেবান কর্তৃক মসজিদে/ স্কুলে আত্মঘাতী হামলায় নিরীহ মুসলিম/শিশু হত্যাকে সমর্থন করে, কখনো জিহাদি সাপ্লাইয়ের প্রত্যয়ও ব্যক্ত করে। তখন কেউ দাবি করেনি ৯০% মুসলমানদের দেশ।

দেশের ভালো চান? কোথায় আপনারা তো প্রতিদিন অন্তত ৪/৫ টা বলাতকার এর সংবাদ শুনি কিংবা দেখি। হুজুরদের সে’সব নিয়ে তো মন্তব্য করেন না? জনাব, মাওলানা মামুন সাহেব, দেশে কি ভাস্কর্যে মুসলিমদের ঈমান যাচ্ছে নাকি এইসব বলাতকার এর ফলে ঈমান যাচ্ছে। কোনটি নিয়ে কথা বলা জরুরী? কোনটি নিয়ে বিক্ষোভ করা জরুরী? ভাস্কর্য আর মূর্তীর বিতর্কের প্রশ্নে নাই গেলাম। ভাস্কর্য, মূত্তী আর ছবি। হিসেব করতে গেলে আপনি নিজেই এই সব এর পার্থক্য জানেন না। সৌদির মত দেশে ভাস্কর্য কিভাবে হচ্ছে? কিভাবে বড় ছবি রাস্তায় টানিয়ে রাখা হচ্ছে। তুরস্কে কিভাবে এরদোয়ানের ভাস্কর্য দাঁড়িয়ে আছে? মূর্তীর সংজ্ঞা কি?

যাক সেসবে নাই গেলাম। পরিশেষে একটিই কথা। দেশটি আওয়ামী লীগের। দেশটির আর দেশের মুসলিমদের ভালো আওয়ামী লীগই ভালো জানে। আপনাদের ভাবতে হবেনা। দেশের মুসলিমদের ঈমানের দায়িত্ব আপনাদের রাখতে দেয়া হয়নি।

লেখকঃ তানভীর হাসান, সম্পাদক-সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বশেষ খবর

জনপ্রিয় খবর

hiastock