সাম্প্রতিক শিরোনাম

ঋণের দায়ে বিপর্যস্ত আমেরিকার জাতীয় অর্থনীতি

সিএনএন নিউজের দেয়া তথ্যমতে, ২০২২ সালের শুরুতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট জাতীয় ঋণ ও দেনার স্থিতির পরিমাণ (অভ্যন্তরীন ও বৈদেশিক) এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট জাতীয় ঋণ ও দেনার পরিমাণ এই প্রথমবারের মতো ৩০ ট্রিলিয়ন বা ৩০ হাজার বিলিয়ন ডলারের সীমাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

যেখানে কিনা কভিড-১৯ মহামারীর আগের বছর ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট ঋনের স্থিতির পরিমাণ ছিল ২৩ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। আবার ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস শেষে মোট ঋনের স্থিতির পরিমাণ ছিল ২১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার। অথচ আমেরিকার ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের দেয়া তথ্যমতে, ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে দেশটির মোট ঋণ ও দেনার স্থিতির পরিমাণ ছিল ৯.২০ ট্রিলিয়ন ডলার। তার ঠিক ১০ বছর পরেই ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসন আমলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট ঋণের আকার ২০ ট্রিলিয়ন ডলার কাছাকাছি হয়ে যায়।

অবশ্য ২০২২ সালের শুরুতে এই পাহাড় সমান ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৬ ট্রিলিয়ন ডলার দেশটির অন্যান্য সরকারি খাত থেকে নেয়া ঋন বা আন্তঃ সরকারি ঋন। তাছাড়া মোট ৩০ ট্রিলিয়ন ডলালের ঋনের মধ্যে বৈদেশিক ঋনের পরিমাণ প্রায় ৮ ট্রিলিয়ন ডলার এবং অন্যান্য দেশীয় বেসরকারি আর্থিক খাত ও ব্যাংক থেকে নেয়া মোট ঋনের স্থিতির পরিমাণ হচ্ছে প্রায় ১৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি।

বর্তমানে প্রতি বছর মার্কিন প্রশাসনকে সুদ বাবদ পরিশোধ করতে ট্রিলিয়ন ডলারের অধিক পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখতে হচ্ছে। যা নিশ্চিতভাবে দেশটির সার্বিক উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্যান্য প্রধান বিষয়গুলো বাধাগ্রস্থ হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া আগামী ১০ বছরে সুদ বাবদ ব্যয়ের পরিমাণ ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের কোটা ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে পিটার জি পিটারসন ফাউন্ডেশন এবং ২০৫১ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট সুদ ব্যয় ফেডারেল রিজার্ভের আয়ের অর্ধেক পরিমাণে পৌঁছে যাবে বলে আশাঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আসলে বিগত কয়েক বছর থেকেই আমেরিকার ফেডারেল ব্যাংকের সুদের হার সর্বনিম্ন স্তরে ছিল। তবে চলতি ২০২২ সালে এসে দেশটিতে নজিরবিহীন মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে এক রকম বাধ্য হয়েই সুদের হার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রশাসন ও তার ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট। তবে নতুন করে সুদের হার বৃদ্ধি করার ফলে অদূর ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি বেশ কঠিক ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে যেতে পারে বলে আশাঙ্কা প্রকাশ করছেন মার্কিন অর্থনীতিবিদেরা। যেখানে ২০২১ সাল শেষে দেশটির মুদ্রাস্ফিতির হার দেখানো হয়েছে প্রায় ৭%। যদিও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বাস্তবে মুদ্রাস্ফীতির হার আরও অনেক বেশি বলে প্রতিয়মান হয়।

২০২২ সালের শুরুতে এসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বের অন্যান্য দেশ এবং একাধিক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নেওয়া মোট বৈদেশিক ঋন ও দেনার স্থিতির পরিমাণ ৮.০০ ট্রিলিয়ন ডলার বা ৮ হাজার বিলিয়ন ডলারে এসে ঠেকেছে। যা কিনা চড়া সুদে ফেরত যোগ্য দীর্ঘমেয়াদী ঋন। আর একক কোন দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ঋন নিয়েছে জাপান এবং চীনের কাছ থেকে। আর আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, চীনের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্টের চরম বানিজ্য বিরোধ এবং কৌশলগত শত্রুতা বিরাজ করলেও এ মুহুর্তে আমেরিকাকে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঋন প্রদানকারী দেশ কিন্তু চীন। ২০২১ সালের হিসেব অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রদত্ত চীনের ঋনের স্থিতির পরিমাণ আনুমানিক ১.১৬ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকছি হতে পারে।

বর্তমানে ঋণ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য মার্কিন প্রশাসন ব্যাপক চেষ্টা করে গেলেও প্রতি নিয়ত ঋণের বোঝা দেশটির ওপর পাথরের মতো চেপে বসেছে। তবে এই সংকট থেকে রেহায় পেতে অতি ধূর্ত মার্কিন প্রশাসন ও তার পরামর্শ দাতারা বিশ্বে আবার বড় কোন ধরনের যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টির পঁয়তারা করছে। বিশেষ করে ইউক্রেন সংকটকে কেন্দ্র করে ইউরোপ ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘ মেয়াদি ও ভয়াবহ যুদ্ধ বাধিয়ে নিজের সুবিধা আদায়ের ভয়ঙ্কর কৌশল নিয়ে এগিয়ে যে যাচ্ছে না তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

এখানে প্রকাশ থাকে যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সারা ইউরোপ ও জাপান ধ্বংস হয়ে গেলে সেখানে যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে অবকাঠামো নির্মাণ, শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে খুব অল্প সময়েই ব্যাপক মুনাফা অর্জন করে আমেরিকা। আর ঠিক সেই সময় থেকেই আমেরিকার অর্থনীতি বিশ্বের প্রথম শীর্ষ স্থনে চলে আসে। যা এক বিংশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত চলমান ছিল। যদিও আমেরিকার অর্থনীতি উন বিশং শতাব্দীর শুরু থেকেই অবিশ্বাস্য গতিতে এগিয়ে যেতে থাকে।

সিরাজুর রহমান (Sherazur Rahman) সহকারী শিক্ষক ও লেখক, গ্রামঃ ছোট চৌগ্রাম, সিংড়া, নাটোর, বাংলাদেশ। sherazbd@gmail.com

সর্বশেষ

রোলস-রয়েল পুরস্কারের গুজব উড়িয়ে দিলেন সৌদি জাতীয় দলের ফুটবলার

দুবাই: সৌদি আরবের জাতীয় দলের একজন ফুটবলার রোলস-রয়েল পুরস্কারের গুজবকে অস্বীকার করেছেন। বিভিন্ন গনমাধ্যমে গুজব উঠে যে প্রতিটি খেলোয়াড়কে ফিফা বিশ্বকাপ কাতার ২০২২ গ্রুপ...

রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের ট্রেনিং সেন্টারে বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ শুরু

নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিরাপদে পরিচালনার জন্য বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। রূপপুর প্রকল্প সাইটে অবস্থিত ট্রেনিং সেন্টারে চলতি মাস থেকে দু’টি গ্রুপ...

আর্টিলারির ধ্বংসাত্মক ক্ষমতার নতুন যুগে বাংলাদেশ

TRG-300 টাইগার মাল্টিপল লঞ্চ রকেট/মিসাইল সিস্টেম সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির মধ্যে দিয়ে রাতারাতি আর্টিলারি সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে বাংলাদেশের। এই সিস্টেমটি যুক্ত হওয়ার আগে বাংলাদেশের আর্টিলারি হামলার...

সিত্রাঙ্গ এর কবলে সাগরে হারিয়ে যাওয়া ২০ বাংলাদেশী জেলেকে উদ্ধার ভারতীয় কোস্টগার্ডের

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাঙ্গ এর কবলে গভীর সাগরে হারিয়ে যাওয়া ২০ বাংলাদেশী জেলেকে উদ্ধার করেছে ইন্ডিয়ান কোস্টগার্ড।ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে ইন্ডিয়ান কোস্টগার্ডের সার্চ এন্ড রেসকিউ অপারেশন চলাকালীন...