সাম্প্রতিক শিরোনাম

বৈদেশিক ঋন, দুর্নীতি মিলিয়ে ভয়াবহ সংকটে পাকিস্তানের অর্থনীতি

সিরাজুর রহমানঃ সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান আবারো চীনের কাছ থেকে ২.৭০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুলত ৬২ বিলিয়ন ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) এর মেইনলাইন (এমএল)-১ প্রকল্পের প্যাকেজ -১ এর নির্মাণকাজের জন্য চীনের কাছ থেকে ১% সুদে এই ঋণ নিতে চায় পাকিস্তান। চীনের অর্থায়নে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬.১০ বিলিয়ন ডলার। তবে চীন কিন্তু এখনও পাকিস্তানের এই অনুরোধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন সাড়া দেয়নি। এদিকে বেইজিং জানিয়েছে, টার্মশিটে উল্লিখিত সুদের হার আরো বেশি করা হতে পারে।

hiastock

অন্যদিকে, আক্টোবর ২০১৮ তে সৌদি আরব সরকার পাকিস্তানকে নুন্যতম ৬.০০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতী প্রদান করেছিল। যার মধ্যে ৩.০০ বিলিয়ন ডলার ছিল সরাসরি আর্থিক সহায়তা এবং অবশিষ্ট্য ৩.০০ বিলিয়ন ডলার তেল সরবরাহের মাধ্যমে সমন্বয় করার কথা ছিল। তবে তুরস্কের সাথে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের ইমরান সরকারের সখ্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সৌদির সালমান সরকার পাকিস্তানের উপর চরম নাখোশ হয়। ফলস্রুতিতে তারা পাকিস্তানকে দেয়া সকল আর্থিক সহায়তা বাতিল করে পূর্বের দেয়া অর্থ ফেরত দেবার জন্য পাকিস্তানের উপর চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। আবার পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তার ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক প্রভাবশালী ও ধনী দেশ আরব আমিরাতও কিন্তু সৌদি আরবের মতো একই পথে হাঁটছে।

এদিকে আবার ২০২০ সালে চলমান করোনা (কভিড-১৯) মহামারির বিরুপ প্রভাব থেকে পাকিস্তানের অর্থনীতিকে সুরক্ষা দিতে এবং আপদকালীন ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট ব্যবস্থা ঠিক রাখতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এর কার্যনির্বাহী বোর্ড জরুরীভাবে র‌্যাপিড ফিনান্সিং ইনস্ট্রুমেন্টের (আরএফআই) অধীনে এসডিআর ১,১১৫.৫০ মিলিয়ন বা ১.৩৮৬ বিলিয়ন ডলার (কোটার ৫০%) সমপরিমাণ অর্থ পাকিস্তানকে ঋন বাবদ বরাদ্দ দিয়েছে। যদিও ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা বা বেল আউট এড়াবার জন্য ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফাণ্ড (আইএমএফ) এর কাছ থেকে নতুন করে ১০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল আকারের বৈদেশিক ঋন পেতে ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছে পাকিস্তানের ইমরান সরকার।

২০১৯-২০ অর্থ বছরে পাকিস্তান মোট ১০.৫০ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋন নিয়েছে। আর এই বড় ধরণের ঋন আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, বৈদেশিক ব্যাংক, সৌদি আরব, চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ সরবরাহ করেছে। তাছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে পাকিস্তান মোট ৮.৪০ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋন নিয়েছিল।

স্টেট ব্যাংক অফ পাকিস্তানের তথ্যমতে, ২০২০ সালের জুনের শেষে পাকিস্তানের মোট বৈদেশিক ঋন এবং দেনার স্থিতির পরিমাণ ১১৩ বিলিয়ন ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া শুধুমাত্র বিগত দুই বছরে দেশটি নজিরবিহীনভাবে ১৭.৬০ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋন নিয়েছে। যা কিনা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ বৈদেশিক ঋন ও দেনা। বিশেষ করে ভারতের সাথে সামরিক শক্তিতে পাল্লা দিতে আধুনিক ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ক্রয় এবং তার পাশাপাশি চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের কারণে পাকিস্তানের পাহাড় সমান বৈদেশিক ঋন ও দেনার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তানে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋন ও দেনার পরিমাণ ১ লক্ষ ৪৩ হাজার পাকিস্তানী রুপীর সমপরিমাণ অর্থের কাছাকাছি এসে পৌছেছে। আর এখন প্রতি অর্থ বছরে পাকিস্তানের বাজেটের একটি বড় অংশ বরাদ্দ রাখতে হচ্ছে ঋনের মূল অংশ ও সুদের দেনা পরিশোধ করার জন্য।

স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের তথ্য অনুযায়ী ২০শে নভেম্বর ২০২০ ইং তারিখে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২০.৫৫ বিলিয়ন ডলার। তবে এই রিজার্ভের ৬০-৭০% কিনা বৈদেশিক ঋন সহায়তার উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। আর দেশটির বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋন ও দেনার বিবেচনায় ফরেন কারেন্সি রিজার্ভ কিন্তু মোটেও যথেষ্ঠ নয়। সেপ্টেম্বর ২০১৮ তে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ৮.৪০ বিলিয়ন ডলার।

২০২০ অর্থ বছরে পাকিস্তানের পন্য রপ্তানির পরিমাণ ২২.৫০৫ বিলিয়ন ডলার এবং এর বিপরীতে ঠিক একই সময়ে পন্য আমদানির পরিমাণ ৪২.৪১৯ বিলিয়ন ডলার। যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের পন্য রপ্তানির পরিমাণ ৩৩০ বিলিয়ন ডলার এবং ২৩শে অক্টোবর ২০২০ অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৫৮০ বিলিয়ন ডলার। যদিও ঠিক একই সময়ে ভারতের বৈদেশিক ঋনের পরিমাণ ৫৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে পাকিস্তান অপেক্ষা ভারতের বৈদেশিক ঋন ও দেনার পরিমাণ ৫ গুণ বেশি হলেও তাদের অর্থনীতির আকার ও দেনা পরিশোধের সক্ষমতা পাকিস্তানের অপেক্ষা প্রায় ১০ গুণ বেশি।

২০১৯-২০ অর্থ বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পন্য রপ্তানির পরিমাণ ৩৩.৬৭ বিলিয়ন ডলার এবং যা ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৪০.৫৩ বিলিয়ন ডলার ছিল। তবে চলতি ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪৫.০০ বিলিয়ন ডলারের সীমাকে স্পর্শ করে। তবে বাংলাদেশের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৪৪.০২৩ বিলিয়ন ডলার। যা কিনা আমাদের জাতীয় জিডিপির ১৩.৩৪%।

তবে প্রকাশ থাকে যে, বিশ্বের একক কোন দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে চীনের কাছে। ২০২০ সালের ৮ নভেম্বরের হিসেব অনুযায়ী চীনের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা কমে ৩.১২ ট্রিলিয়ন ডলার বা ৩১২০ বিলিয়ন ডলারে পৌছেছে। তবে চীনের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিশ্বের সর্বোচ্চ হলেও চীনের বৈদেশিক ঋনের পরিমাণও কিন্তু কম নয়। মে ২০২০ এর হিসেব অনুযায়ী চীনের মোট বৈদেশিক ঋন ও দেনার স্থিতির পরিমাণ ৫.৪৮ ট্রিলিয়ন ডলার বা ৫৪৮০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

এখানে প্রকাশ যোগ্য যে, পাকিস্তানের প্রধান বৈদেশিক বিনিয়োগকারী বা ঋন প্রদানকারী দেশ কিন্তু চীন। আর চিনের সাথে পাকিস্তানের রয়েছে প্রায় ৫ দশকব্যাপী এক পরীক্ষিত ও সুগভীর অর্থনৈতিক এবং সামরিক সম্পর্ক। কিন্তু পাকিস্তানের বর্তমান সরকার প্রধান ইমরান খান ক্ষমতায় আসার শুরু থেকে এ পর্যন্ত একাধিকবার চীন সফর এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করলেও, অত্যন্ত সুচতুর চীনের শি জিং পিং সরকার পাকিস্তানকে কার্যত এখনো পর্যন্ত তাদের চর

সর্বশেষ খবর

জনপ্রিয় খবর

hiastock