সাম্প্রতিক শিরোনাম

যে মানুষ মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত, কেউ তাকে মারতে পারে না : বঙ্গবন্ধু

‘সেদিন বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী বিমানটি লন্ডনের হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে অপেক্ষায় ছিলেন লন্ডনে বাংলাদেশ মিশনের প্রধান এমএম রেজাউল করিম। আর ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানান ইয়ান সাদারল্যান্ড। বঙ্গবন্ধু ব্রিটিশ সরকার নির্ধারিত সরকারি লিমোজিন ব্যবহার না করে রেজাউল করিমের গাড়িতে চড়েই হোটেলে যান। পাকিস্তান কারাগারে নয় মাসের বন্দিজীবন কাটিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি পান ৮ জানুয়ারি ১৯৭২।’

hiastock

‘মুক্তির পর পাকিস্তান থেকে লন্ডন চলে আসেন তিনি। সেখানেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমি মৃত্যুর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম। মনে রাখতে হবে, যে মানুষ মরতে প্রস্তুত তাকে কেউ মেরে ফেলতে পারে না।’ এ সময় হাজার হাজার বাঙালি হোটেল ক্যারিজেস ঘিরে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে আকাশ-বাতাস মুখরিত করেন। অনেকেই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ করেন

‘যা নিয়ে সমস্যায় পড়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ। পরে সিদ্ধান্ত হয় পাঁচজনের একটি দল বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে পারবে। দুপুরে হোটেলে জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু। লন্ডনের হোটেল ক্যারিজেস লবিতে জনাকীর্ণ ওই সংবাদ সম্মেলনে ইংরেজিতে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের জন্য আমাদের লড়াইয়ের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।’

‘পাকিস্তানের কারাগারের কনডেম সেলে আমি যখন ফাঁসির জন্য অপেক্ষা করছিলাম তখন বাংলাদেশের জনগণ আমাকে তাদের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেছে। আমি স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বাধীনতাকামী সব রাষ্ট্র যারা আমাদের সমর্থন দিয়েছে তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিশেষত ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, পোল্যান্ড ও অন্যান্য পূর্ব ইউরোপিয়ান রাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা স্বাধীনতাকামী জনগণ যারা আমাদের সমর্থন জানিয়েছেন তাদের সকলকে আমি ধন্যবাদ জানাই।’

‘আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগোষ্ঠীকেও তাদের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। এখন আমি সকল রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাই বাংলাদেশকে অতিসত্বর স্বীকৃতি দিতে এবং জাতিসংঘে অন্তর্ভুক্তিতে সমর্থন জানাতে। আধা ঘণ্টার কিছু কম সময়ের ওই সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বিশ্বের আর কোনো দেশের মানুষকে বাংলাদেশিদের মতো স্বাধীনতার জন্য এতটা মূল্য দিতে হয়নি।’

‘আমিও একটি মুহূর্তের জন্য তাদের এই দুর্দশার কথা ভুলতে পারিনি। তাই আমি দেশ ও দেশের বাইরে থাকা প্রত্যেক বাংলাদেশিকে ধন্যবাদ জানাই। অভিনন্দন জানাই মুক্তিবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে। যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করা লাখ লাখ মানুষের শোকাহত পরিবারের প্রতি জানাচ্ছি সমবেদনা ও বিদেহী আত্মার মাগফিরত কামনা করছি। এক ব্রিটিশ সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বাংলাদেশে কী বীভৎসতা চালানো হয়েছে তা শুনলে আপনারা আশ্চর্য হবেন।’

‘লাখ লাখ মানুষকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, মাইলের পর মাইল যেভাবে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, বেঁচে থাকলে হিটলারও হয়তো লজ্জা পেতেন। পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী থাকার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘এটা আমার জন্য নতুন কোনো বিষয় নয়, আমি গত ১০-১৫ বছর ধরেই এর মধ্যে রয়েছি। আর একটা বিষয় মনে রাখবেন, যে নিজেই মরতে চায়, তাকে কেউ মারতে পারে না।’

সর্বশেষ খবর

জনপ্রিয় খবর

hiastock