সাম্প্রতিক শিরোনাম

মৃহস্পতি

কখনো নিজের সবচেয়ে সেরা বন্ধুর সাথে লড়েছেন কি? নইলে বোঝানো যাবেনা যে জীবনের সবচেয়ে সত্য ও একমাত্র প্রেমটি হারানোর চেয়ে প্রিয় বন্ধুটিকে হারানোর বেদনা খুব কম কিছু নয়।

প্রেম অপায় মানুষের মধ্যে কখনো পূরণ না হওয়া এক শূন্যতার সৃষ্টি করতে পারে। হয়তো ভাবছেন এরচেয়ে খারাপ আর কী হতে পারে? কিন্তু বন্ধুত্বের ইতি আপনাকে সেই শূন্যতার সাগরেও তলাহীনতার অনূভুতি এনে দিতে পারে।

মিশু আমার ত্যামনই এক বন্ধু ছিলো। দেখতে ঠিকঠাক, গায়ে গতরে তাগড়া আর বুদ্ধিশুদ্ধিতে নিরেট প্রকৃতির। তারউপর কাঁধ পর্যন্ত আউলা বাউল চুল, সাথে কাব্যিক ব্যায়রাম- মানে গীটার বাজায়, দারুণ কবিতা লেখে আর ছবি আঁকে। শরীরে বিরাট হলে কী হবে ওর মধ্যে সর্বক্ষণ এক সহজাত ছেলেমানুষী কাজ করতো। সহজ ভাষায় মেয়ে পটানোর জন্য সর্বগুণ সম্পন্ন।

শিল্পসাহিত্যের সাথে আমার যোজন যোজন দূর পর্যন্ত কোন সম্পর্ক নাই। এসবকে আমি সবসময় অযথা কালক্ষেপণ হিসেবেই দেখি। মিশু বেচারা বিশ্বভারতী থেকে স্নাতকোত্তর করার আগপর্যন্ত আমার ধারণা ছিলো যে ও সময় নষ্ট করছে। এখনো যে সে মত বদলেছে তা নয়, তবে ওর কাছে দামী সনদ চলে আসায় মুখ ফুটে আর কিছু বলতে পারিনা।

এতোকিছুর পরও মিশু চিরকালই সববিষয়ে আমার মতামতের গুরুত্ব দ্যায়। নিজের লেখা নূতন কোন গান বা কবিতা, এমনকি মাঝেমধ্যে দিনলিপির পাতাও জবরদস্তি পড়ে শোনায়। নিখাদ ভালোবাসা থেকে সন্দেহ নেই।

তারপরও ওকে যন্ত্রণা দেওয়ার যে এক গভীর আনন্দ, তা থেকে আমি নিজেকে কখনো বঞ্চিত করতে পারিনা। একবার ও মহাউৎসাহে আমাকে চার পঙক্তি আবৃত্তি করে শোনালো-

“যে নক্ষত্র — নক্ষত্রের দোষ,
আমার প্রেমের পথে বার-বার দিয়ে গেছে বাধা
আমি তা ভুলিয়া গেছি;
তবু এই ভালোবাসা — ধুলো আর কাদা…”

“ক্যামনরে দোস্ত?”

-একদম ফাইলতু।

“এটা জীবনানন্দের লেখা!”

আমি নির্বিকার মুখে বলে দিলাম- হুম্ কিন্তু চেষ্টা করলে আরেকটু ভালো লিখতে পারতো। এইটা অতিআবেগী হয়ে গ্যাছে।

মিশুর বাড়িতে আমার অবাধ আনাগোনা ছিলো। আসলে ওর বন্ধুবহরের মধ্যে ক্যাবল আমারই এই সুবিধাটা ছিলো। খালাম্মা ভালো মানুষ। আমার বাউন্ডুলে স্বভাবে তিনি নিশ্চয়ই বিরক্ত ছিলেন কিন্তু সর্বদা মায়াভরা স্মিত হাসির সাথেই কথা বলতেন, শুধু তাই না অসাধারণ রান্না করেও খাওয়াতেন। খুব সাদাসিধে খাবারও ওনার হাতে অসামান্য মনে হতো।

দুপুর ব্যালা খেয়েদেয়ে ওর কাঠের মেজ এর ওপর দুঠ্যাং তুলে বসে আছি। মিশু হঠাৎ লাফিয়ে উঠলো- “দোস্ত তোর পায়ের একটা ছবি আঁকবো!”

-আ..জ..ব না? পায়ের ছবি ক্যানো?

“এখান থেকে দেখতে বেশ শৈল্পিক লাগছে, তারউপর আমার স্থিরবস্তুর পাঠ চলছে। একটা অনুশীলন হয়ে যাবে।”

-আমার পা কি স্থিরবস্তু?

“আমি কি তাই বললাম? চুপ করে বসে থাক, ছবিটা আঁকি।

-না।

“না ক্যানো?”

-আমার মাথাব্যাথা করছে।

“তারসাথে ছবি আঁকার কী সম্পর্ক? মিশু অবাক হয়ে জানতে চাইলো, তোর মাথা তো মাথার জায়গাতেই থাকবে।”

-মাথা ব্যাথা হলে আমি স্থির বসতে পারিনা। বারবার পা নাড়ালে তুই কি ছবি আঁকতে পারবি? বলেই কেদারার ওপর বাবু হয়ে বসলাম, যাতে ‘স্থিরবস্তুটা’ ওর দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যায়।

মিশু বেশ ব্যাজার হয়ে বললো “আঁকতে দে দ্যাখ।”

আমি নিশ্চিত বহুলোক নিজেদের প্রতিকৃতি আঁকাতে ব্যগ্র, হোক তা শুধু পায়েরই। কিন্তু মিশুকে ছাড় দেওয়া যাবেনা।

-ঠিকাছে, আঁকতে পারিস, তবে একটু কষ্ট করতে হবে।

“কী বল?” মিশু আগ্রহের সাথে জানতে চাইলো। সে করিৎকর্মা ছেলে, পাহাড় উঠিয়ে আনতে বললেও তারপক্ষে অসম্ভব নয়।

পরের দৃশ্য, আমি পাটা মেজ এর ওপর তুলে কেদারায় এলিয়ে বসে আছি এবং মিশু একহাতে পেন্সিল চালাচ্ছে আর অন্য হাতে আমার চুল টেনে দিচ্ছে। একটু থামলেই আমি পা নাড়াই আর ও জলদি আবার মাথা টেপা শুরু করে।

শিল্পের জন্য এমন তিতিক্ষা আর আত্মত্যাগ এমন কি ভ্যান গগকেও দ্যাখাতে হয়নি।

কোন পূর্বাভাস, ঝগড়া বা কথা কাটাকাটি ছাড়াই এমন বন্ধুটির সাথে চিরকালের জন্য আমার সম্পর্কটা খারাপ হয়ে গ্যালো। কারণটা… ঠিকই ধরেছেন- এক বালিকা!

বিপদ কদাচ একা আসেনা কিন্তু বালিকা একা একাই আসতে পারে, কখনো কখনো কোন সংকেত বা পূর্বাভাস ছাড়াই। কোন এক বুধবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে শিমূলের ডাক পেলাম। শিমুল আমাদের বান্ধবী, অত্যন্ত সাদা মনের ভালোমানুষ ধরণের মেয়ে। তাঁর মুঠোডাক সবসময় গুরুত্বের সাথে নিতে হয়।

কোন ধরনের সামাজিকতা বা শিষ্টাচার শিমূলের ধাত নয়, ফোন করেই সোজা কাজের কথা-

“দোস্ত, তুই খুলনায় আসবি কবেরে?”

-আমিতো রবি, মঙ্গল আর বৃহষ্পতি, সপ্তাহে মোট তিনদিন ক্লাস করতে খুলনায় আসি।

“ওহ তারমানে কালকেও আসবি? আমার বাসায় একটু আসতে পারবি বিকালের দিকে?”

-হ্যা অবশ্যই!

“আচ্ছা, আয় তাহলে,” বলেই রেখে দিলো।

কি ব্যাপার তার কোন ব্যাখ্যা নেই, কোন বিশেষ দরকার নাকি ওর জন্মদিনের দাওয়াত তাও খুলে বললো না। অবশ্য আবশ্যকতা নেই, শিমূল ভালো বন্ধু, প্রয়োজন যাই হোক অবশ্যই সে ডাকতে পারে; তার জন্য তাকে কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে না।

৩টে নাগাদ ক্লাস শেষ হতেই আমি জলদী চলে গেলাম মৌলভীপাড়া, সজলের বাসায়। ইচ্ছে ছিলো একটা ঘুম দেবো কিন্তু কপালে নেই। তার খাটে আরাম করে শুতেই সে খুলনা শহরের হালের সব আজগুবী খবরাখবর শোনাতে থাকলো, সাথে সব বন্ধুবান্ধব আর পরিচিতজনদের কীর্তিকলাপ।

কোন মতে ৫টা বাজিয়ে সোজা রওনা দিলাম শিমূলের বাসায়, সে তেঁতো কফির থেকেও কড়া চা বানাতে জানে। শিমূলের বাবা চিকিৎসক ছিলেন, আমার ধারণা ছিলো যে দেশের চিকিৎসকরা সবাই কোটিপতি না হলেও লাখোপতিতো বটেই। কিন্তু শিমূলদের বাড়িটা বেশ সাদামাটা গোছের। ক্যানো বা ওদের কোন অর্থনৈতিক ঝামেলা আছে কিনা আমি জানিনা, কখনো জিগ্যেস করাও হয়নি।

যাহোক সাদামাটা হলেও ওদের বাড়িটা বেশ ছিমছাম, চওড়া বারান্দায় একটা সোফার ওপর বসে আছি, শিমূল এক পেয়ালা সাদা চা নিয়ে হাজির। এটা বিরল ঘটনা। আমি দুধ ছাড়া চা পছন্দ করিনা জেনেও সে চিরকাল তিতকুটে ধরণের লাল চাই খাইয়েছে, আজ হঠাৎ এতো মেহেরবানি দেখে ভিতরে ভিতরে একটা বলির পাঁঠা ধরণের অনুভূতি টের পেলাম।

চায়ে দুচার চুমুক দিতেই সে গভীর মমতার সাথে জিগ্যেস করলো “দোস্ত তুই ব্যস্ত নাতো? তোর কি অন্য কোন কাজ আছে, নাকি খানিকক্ষণ কথা বলা যাবে? তুই ব্যস্ত হলে থাক।”

আমি মনে মনে সাবধান হয়ে চায়ে আরেক চুমুক দিয়ে বললাম- নানা মোটেই কোন কাজ নেই, তুই বল।

“আসলে তোর একটা সাহায্য লাগবে, আমার একটা বান্ধবী আছে বুঝেছিস? নাম রুম্পা, বড়ই দুখী মেয়েরে।”

আমি মনে মনে সস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম- ওহ টাকাপয়সা লাগবে? ঠিকাছে…।

“আরে নাহ! তুই আগে শোন,” শিমূল এক তাড়ায় মাঝপথেই আমাকে থামিয়ে দিলো, “মেয়েটা খুব ভালো কিন্তু অনেক দুঃখী বুঝেছিস?”

আমার চুপচাপ শোনার কথা, তাই চোখ গোলগোল করে ওর দিকে তাকিয়ে থাকলাম।

“ও দেখতে বেশ সুন্দরী,” শিমূল ব্যাখ্যা করে চলেছে “কিন্তু অনেক সরল সোজা তো, তাই অনেকগুলো প্রেম করে ফেলেছে, মানে একসাথে অনেকের সাথে। হয়না, কমবয়সী মেয়েরা না বুঝেই অনেক সময় বোকামী করে বসে? এখন তার ফল ভুগছে।”

-আচ্ছা কোন ছেলে প্যারা দিচ্ছে? নাম বল আমি দেখছি, কোন এলাকার ছেলে?

“উফ! তুই একটু চুপ থাকবি? আগে শোন আমি কি বলছি” শিমূল বেশ তেঁতে উঠলো।

-দুঃখিত দোস্ত, ভুল হয়ে গ্যাছে, তুই বল।

“ও এখন পুরোপুরি শুধরে গ্যাছে। কারো সাথে কোন সম্পর্ক রাখেনা, এমন কি দূরালাপনীতেও না। সারাদিন বাসাতেই থাকে আর আমি ছাড়া দ্বিতীয় কারো সাথে মেশেনা। খুব অসহায় একটা মেয়ে রে, আমি চাই ওর একটা গতি হোক,” বলে শিমূল একটা গভীর ব্যগ্রতা নিয়ে আমার দিকে তাকালো।

মনে মনে প্রমাদ গুণলাম, ওকি সেই অসহায়, দুঃখী, বেচারী মেয়েটিকে আমার গলায় বাঁধার চেষ্টা করছে? মানে আচার-বিচার কিছুই না, বয়াম ভাঙার দন্ড ১২ আনা?

আমার হাবভাবে শিমূলের কিছুই আসলো গ্যালো না, সে তার নূতন পুষ্যির চিন্তায় বিভোর। “ও সারাক্ষণ খুব মনমরা হয়ে থাকে, আমি অনেক ভেবে দেখলাম ওর আসলে একটু সঙ্গ দরকার, য্যামনটা হঠাৎ আফিম ছেড়ে দিয়ে কেউ যদি অসুস্থ হয়ে যায়, তখন তাকে সুস্থ করার জন্য আবার আফিমই দেওয়া হয়না? ঠিক ত্যামনি!”

“কিন্তু ছেলেটা হতে হবে ভালো, ক্ষতিকর ধরণের নয়,” শিমূল গভীর মগ্নতার মাঝে বলে চলেছে, “সেই জন্যেই তোর সাহায্য চাইলাম।”

-এখন তুই কী চাইছিস? যে আমি ওর সাথে একটা ভদ্র, দুরস্ত ধরণের প্রেম করি?

শিমূল ফিক করে হেসে ফেললো, “আরে নাহ! তা না দোস্ত, আমিতো তোকে ভালো করেই চিনি, তাই বল্লাম। তুই যদি মাঝেমধ্যে ওকে নিয়ে একটু এদিক সেদিক ঘুরতে যেতি, মানে ঘুরলি, গল্প করলি, কোথাও খেতে গেলি… এই আরকি, তাহলে ওর ভগ্নোদ্যম অবস্থাটা খুব দ্রুত কেটে যেতো সেজন্য বলা।”

শিমূল আমাকে ঠিক ক্যামন চেনে কে জানে? আমার নিজেকে নিয়ে এতোখানি ভরসা হলো না।

“আসতে বলেছি, ও কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসবে,” শিমূল কথা শেষ না করতেই হুড়কো নাড়ার আওয়াজ পেলাম, “রুম্পা তুই?” শিমূল উচ্ছাসের সাথে জানতে চাইলো, মৃদু গলায় কিছু একটা জবাব এলো। রুম্পা এসে গ্যাছে, এটা নিশ্চিত।

শিমূল ইংরেজী সাহিত্যের ছাত্রী, শ্রেণীকক্ষের বাইরে ইংরেজী সাহিত্য কি পড়েছে জানা নেই, তবে মেজ এর ওপর কয়েকটা ইংরেজী বিনোদন পত্রিকা জড়ো করে রাখা। আমি তারই একটা তুলে নিয়ে গভীর মনযোগের সাথে পাতা ওল্টাতে থাকলাম। ঘড়ির মাঝারি কাঁটায় পাঁচ দাগ পার না হতেই, দুবান্ধবী নিজেদের গভীর আলোচনায় ডুবে গ্যালো। মেয়েরা এতো গল্প কিভাবে করে কেজানে? যাহোক এটাই উপযুক্ত সময়।

আমি আরেকটা পত্রিকা তুলে নেবার বাহানায় শিমূলের বন্ধুটির দিকে আড়চোখে চাইলাম। একসাথে দুটো ব্যাপার ঘটলো, প্রথমতঃ আমি ধরে নিয়েছিলাম দুবান্ধবী আড্ডায় মগ্ন বলে আমার চোরাচাহনি টের পাবেনা কিন্তু রুম্পা মেয়েটার কোন ধরণের কালোজাদু ক্ষমতা আছে, সে সোজা আমার দিকেই তাকিয়েছিলো। তাকাতেই ওর হালকা বাদামী চোখে চোখ পড়ে গ্যালো।

দ্বিতীয়তঃ আমি সিকি সেকেন্ডে বুঝে গেলাম যে এতোক্ষণ ধরে ওর সম্মন্ধে যা কিছু শুনেছি সবই বাকওয়াজ, এই মেয়ের কোন সমস্যা নেই, থাকতেই পারেনা। কারণ সে নিজেই প্রতি বর্ণে এক মূর্তিমান সংকট!

দোহারা গড়ন, এলোকেশ, বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা আর চোখের দ্যুতি পরিষ্কার বলে দিচ্ছে যে এই মেয়ে আর যাই হোক বিষাদগ্রস্ততায় কাতর কোন অসহায় বেচারী নয়। সে উচ্ছাসপ্রিয়, আত্মপ্রত্যয়ী আর মিশুক। একটু হেসে জিগ্যেস করলাম- ক্যামন আছো?

“ভালো”

ইঙ্গিতে শিমূলকে দেখিয়ে বললাম- তোমার মামনীতো তোমার চিন্তায় নাওয়াখাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। সে উচ্চস্বরে হেসে উঠলো, হাসি তাঁর চোখ ছোঁয়। সেদিন গল্প করতে করতে আমি প্রথমে রাত ৮টা আর পরে রাত ১০টার ফিরতি রেলের সময় পার করে ফেললাম। ১১টা নাগাদ রুম্পা আমাকে রিক্সায় করে ঢাকাগামী শেষ বাসে তুলে দিলো, যশোরে নামবো।

তিনটে বিষয় টের পেলাম, প্রথমতঃ মেয়েটার মধ্যে কোন ধরণের লুকোছাপা নেই। লোকে তাঁর সম্মন্ধে কি ভাববে এটা নিয়ে সে কুন্ঠিত নয়।

দ্বিতীয়তঃ তাঁর যেটা মনে সেটাই মুখে আসতে সময় লাগেনা। কেউ আহত হবে বা কি ভাববে, এই সব চিন্তা তাঁর নেই। সম্পূর্ণ ভন্ডামীশূন্য মুক্ত মন।

তৃতীয়তঃ এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, খুলনা শহরের অর্ধেক উঠতি গুন্ডাকে সে ব্যক্তিগত ভাবে চেনে এবং অন্তত আধ ডজনের সাথে তাঁর প্রনয়ের সম্পর্ক ছিলো।

সব মিলে অসাধারণ একটা মেয়ে। কিছু কিছু মেয়েকে দেখলেই পটাতে ইচ্ছে করে আর খুব কম কিছুকে সত্যিই ভালো লাগে, বন্ধু হতে মন চায়। রুম্পা তার সহজ মানসিকতা আর আন্তরিকতা নিয়ে পুরোটাই শেষের রকম।

বাসায় ফিরে নাওয়া খাওয়া না সারতেই মুঠোফোনে তাঁর ডাক পেলাম, গল্প করতে করতে কখন যে ভোররাত টেরও পেলাম না।

পরের রবিবারে আবার দ্যাখা হলো, আবারো প্রথমে ৮টা আর পরে ১০টার রেল ছুটে গ্যালো, পরের মঙ্গলবারেও ঠিক তাই। এক হফতা না যেতেই এটা আমাদের নৈমিত্তিক রীতিতে পরিনত হয়ে গ্যালো।

দুজনই দুজনকে বেশ বুঝতে পারতাম বলে আমার ধারণা। প্রেম যদিও ছিলোনা, সম্পর্কটা মূল্যবান ছিলো। এই বন্ধুত্বের খাতিরে আমি অনেকটাই দূরপর্যন্ত যেতে আগ্রহী ছিলাম। কে জানতো শহরের অপর প্রান্তে তখন কি চক্রান্ত ঘোঁট পাকাচ্ছে!

জানা গ্যালো মিশু রুম্পাকে বেশ আগে থেকেই চেনে এবং তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টা করেছে। বোধহয় কোন এক নারীবাদী সংগঠনের সভায় ওকে প্রথম দেখে ওর সাথে আলাপ জমানোর চেষ্টা করে বিফল হয়েছিলো। যদিও সবাইকে বেশ ফলাও করেই রুম্পার ব্যাপারে নিজের দূর্বলতার কথা বলে ব্যাড়াতো, বিষয়টা আগে না বাড়ার হতাশা সে বেশ সফলভাবেই বহন করছিলো। কিন্তু আপনার প্রেমের নিবন্ত শিখাই যদি উসকে না দ্যায়, তাহলে আর বন্ধু কিসের?

শিমূল নিজ দ্বায়িত্বে খুলনার ৪২ ডিগ্রী তাপমাত্রার পরোয়া না করে, রিক্সা, স্কুটার আর পদব্রজে শহরের দূরতম প্রান্তে মিশুর বাসায় গিয়ে পৌছালো, শুধু এই কথা বলার জন্য যে- “কিরে? তুই তো পারলি না, তোর ভাইতো পাখি উড়িয়ে নিয়ে গ্যালো!”

মিশু শিল্পী মানুষ, শিল্পীরা টাকাপয়সার ব্যাপারে খুবই উদার প্রকৃতির হয় কিন্তু নাম আর নারীর ক্ষেত্রে কখনোই নয়। শিমূল তার বাসায় আরো একটি সাক্ষাতের আয়োজন করলো, এবারের অতিথি রুম্পা আর মিশু। পরের বৃহষ্পতিবারে আমি পৌছাতেই টের পেলাম দুজনেই বেশ ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে গ্যাছে। বয়রায় একটা ম্যালা হচ্ছে, মিশুর সেখানে যাবার পরিকল্পনা। দুজনেই আমার জন্য অপেক্ষা করছে, তিনজন মিলে যাবো।

দারুণ! চলো যাই। আমি বেশ উৎসাহ পেলাম। মিশু আমার দিকে ফিরে একটা বিজয়ীর হাসি দিলো। ঠিক এই মুহুর্তটা আমার পছন্দ হলো না। না রুম্পা আমার ব্যক্তিগত সম্পত্তি, না মিশুর সাথে কোন প্রেম দ্বৈরথ চলছে। দুজনেই বন্ধু কিন্তু আমাকে “হারানো” ওর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এই অনুভূতিটা সুখকর নয়।

টের পেলাম আমি ইর্ষান্বিত নই, শুধুই বেচারা!

চিত্র কৃতজ্ঞতাঃ লুবনা চর্যা

সর্বশেষ

বন্যার্তদের মাঝে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বুড়াবুড়ী ইউনিয়ন শাখার ত্রান বিতরণ।

মোঃ মশিউর রহমান বিপুলকুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃকুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের নির্দেশ ক্রমে,কুড়িগ্রামে বন্যার্তদের মাঝে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বুড়াবুড়ী ইউনিয়ন শাখার নিজ উদ্দ্যোগে জরুরী মানবিক খাদ্য সহায়তা পৌঁছে...

কুড়িগ্রাম জেলা যুবলীগের উদ্যোগে বন্যা দূর্গতদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রি বিতরণ

মোঃ মশিউর রহমান বিপুল, কুড়িগ্রাম:কুড়িগ্রাম জেলা যুবলীগের উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণবাংলাদেশ আওয়ামী-যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল...

সাহস, স্বপ্ন ও সক্ষমতার পদ্মাসেতুর উদ্বোধন রাত পোহালেই

সাহস, স্বপ্ন ও সক্ষমতার পদ্মাসেতুর উদ্বোধন রাত পোহালেই। পদ্মা পাড়ি দেয়ার যুগ-যুগান্তের ভোগান্তি শেষ হচ্ছে এই মেগা স্ট্রাকচারের দ্বার খোলার মধ্য দিয়ে। সকল প্রতিকূলতা...

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ‘রৌপ্য ব্যাঘ্র’ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত

মোঃ মশিউর রহমান বিপুল, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ স্কাউট আন্দোলনের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনকে বাংলাদেশ...