সাম্প্রতিক শিরোনাম

আজ শহীদ শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠপুত্র, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ কামালের আজ ৭১তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৪৯ সালের এই দিনে বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীল প্রতিভার অধিকারী শেখ কামাল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।

hiastock

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভয়াল কালরাত্রিতে মাত্র ২৬ বছর বয়সে তিনি জাতির জনকের হত্যাকারী ঘৃণ্য শত্রুদের নির্মম-নিষ্ঠুর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়ে শাহাদাত বরণ করেন।

১৫ আগস্ট নারকীয় হত্যাযজ্ঞের প্রধান লক্ষ্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেও এ দিনের ঘটনায় প্রথম শহীদ হন শেখ কামাল। খুনী বজলুল হুদা তার স্টেনগান দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামালকে হত্যা করে।

গুগল এডস

বাড়িতে প্রথম ঢুকে মেজর বজলুল হুদা এবং ক্যাপ্টেন নূর চৌধুরী। সঙ্গে আরও কয়েকজন বাড়িতে ঢুকেই তারা শেখ কামালকে দেখতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে বজলুল হুদা স্টেনগান দিয়ে তাকে গুলি করে। শেখ কামাল বারান্দা থেকে ছিটকে গিয়ে অভ্যর্থনা কক্ষের মধ্যে পড়ে যান। সেখানে তাকে আবার গুলি করে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু ভবনের আবাসিক ব্যক্তিগত সহকারী এবং হত্যা মামলার বাদী মুহিতুল ইসলামের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের মধ্যেও এ বর্ণনার কথা রয়েছে।

শেখ কামাল ঢাকার শহীন স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএ অনার্স পাস করেন। বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি অঙ্গনের শিক্ষার অন্যতম উৎসমুখ ছায়ানটের সেতার বাদন বিভাগের ছাত্রও ছিলেন শেখ কামাল।

উত্তর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কর্মসূচীর পাশাপাশি সমাজের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর ভাগ্যেন্নয়নে সমাজ চেতনায় উদ্বুদ্ধকরণে মঞ্চ নাটক আন্দোলনের ক্ষেত্রে শেখ কামাল ছিলেন প্রথম সারির সংগঠক।

ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাও। অভিনেতা হিসেবেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।

শৈশব থেকে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় প্রচণ্ড উৎসাহ ছিল শেখ কামালের। তিনি উপমহাদেশের অন্যতম ক্রীড়া সংগঠন ও আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তক আবাহনী ক্রীড়া চক্রের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। শহীদ শেখ কামাল আমৃত্যু আমাদের দেশের নান্দনিক ফুটবল ও ক্রিকেটসহ অন্যান্য দেশীয় খেলার মানোন্নয়নে তার অক্লান্ত শ্রম দিয়ে অপরিসীম অবদান রেখেছিলেন।

খেলোয়াড় সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করতেন এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলন করতেন। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্লু’ দেশবরেণ্য এ্যাথলেট সুলতানা খুকুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

শেখ কামাল ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে মুক্তিবাহিনীতে কমিশন্ড লাভ করেন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানির এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর শেখ কামাল সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি নিয়ে পুনরায় লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করেন।

শেখ কামাল বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন এবং শাহাদাত বরণের সময় বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠন জাতীয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শাহাদাতবরণের সময় তিনি সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের এম এ বর্ষের শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে- স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল সাড়ে ৮টায় ধানমণ্ডির আবাহনী ক্লাব প্রাঙ্গণে শহীদ শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, সকাল সোয়া ৯টায় বনানী কবরস্থানে চিরনিন্দ্রায় শায়িত শহীদ শেখ কামালের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, কোরানখানী, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। শহীদ শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আবাহনী লিমিটেড ক্লাব প্রাঙ্গণে সারাদিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

সব অনুষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে- রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, দিনব্যাপী কোরান তেলাওয়াত, বিকেল ৫টায় শহীদদের বর্ণাঢ্য কর্মবহুল জীবনের ওপর ভার্চুয়াল আলোচনা ও স্মৃতিচারণ এবং বাদ আসর ক্লাব ভবনে দোয়া মাহফিল।

শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে ‘তারুণ্যের জেগে উঠার নাম শেখ কামাল’ শীর্ষক বিশেষ ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে সেন্টার ফর রিসার্চ এ্যান্ড ইনফরমেশন-সিআরআই।

সর্বশেষ খবর

জনপ্রিয় খবর

hiastock