সাম্প্রতিক শিরোনাম

সন্ধ্যা নাগাদ সুন্দরবন এলাকায় আঘাত হানতে পারে

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে।

hiastock

এখন পর্যন্ত নিম্নচাপটির অবস্থান যেখানে, তাতে শুক্রবার বিকেল বা সন্ধ্যা নাগাদ বাংলাদেশের খুলনা, সুন্দরবন ও ভারতের সুন্দরবন এলাকায় এটি আঘাত হানতে পারে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ দুই দিন ধরে যে ব্যাপক বৃষ্টি, তাতে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা কম। প্রবল বৃষ্টির ফলে নিম্নচাপের শক্তি ক্ষয় হয়ে যায়।

গুগল এডস

নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বইছে। গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কি না তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টির ব্যাপকতা অনেক বেশি।

তবে এখন পর্যন্ত নিম্নচাপের অবস্থান যেখানে, তাতে এটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, সুন্দরবন উপকূলের দিকে। আজ শুক্রবার বিকেলে বা সন্ধ্যায় ভারতের সুন্দরবন ও বাংলাদেশের সুন্দরবনে এটি আঘাত হানতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, নিম্নচাপটি বর্তমানে মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে।

নিম্নচাপটির কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। নিম্নচাপের কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে।

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে আজ রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ৪৮ থেকে ৮৮ মিলিমিটার ভারি বর্ষণ হতে পারে।

একই সঙ্গে ৮৯ মিলিমিটারের বেশিও বৃষ্টি বা অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। নিম্নচাপের প্রভাবে আজ দেশের প্রায় সব জেলায় বৃষ্টি হবে। গতকাল সর্বোচ্চ বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ২৭৯ মিলিমিটার। এ ছাড়া পটুয়াখালীতে ১৯৪ মিলিমিটার, হাতিয়ায় ১৫৭ মিলিমিটার ও কক্সবাজারে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, সাধারণত বাতাসের গতিবেগ যখন ৬০ থেকে ৮৯ কিলোমিটার হয়, তখন ঘূর্ণিঝড় বলা হয়।

চলতি মাসে একটি ঘূর্ণিঝড়ের আভাসের কথা আগেই জানিয়েছিল আবহাওয়া অফিস। গত বুধবার সাগরে লঘুচাপ তৈরি হয়। সেটি ধীরে ধীরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, সেখান থেকে নিম্নচাপ, এরপর গভীর নিম্নচাপে রূপ নেয়। এর প্রভাবে গত দুই দিন দেশজুড়ে বৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল ঢাকায় ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে দিনজুড়েই আকাশ ছিল মেঘলা। কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি, আবার কখনো মাঝারি বর্ষণ হয়েছে। এরই মধ্যে সাগরে দুটি গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে।

আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতেও বলা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর

জনপ্রিয় খবর

hiastock