শতাব্দীর ভয়াবহ বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি মহামারী করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে ফ্রন্ট ফাইটার হিসেবে যেমন সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা, তদ্রুপ তাঁরাই আবার সুচিকিৎসা পেয়ে দলে দলে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) মহোদয়ের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও তড়িৎ পদক্ষেপে করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যরা সুস্থ হয়ে কাজে ফেরায় অপেক্ষায় আছেন।
গতকাল ১৫ জুন সোমবার নতুন করে করোনামুক্ত হয়েছেন আরও ৫৩ পুলিশ সদস্য। তাঁরা সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। করোনা উপসর্গ নিয়ে এসব পুলিশ সদস্যগণ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল ও ইমপালস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সরকারের আইইডিসিআর এর চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী এ ৫৩ পুলিশ সদস্যদের পরপর দুবার কোভিড-১৯ টেস্ট করা হয়। টেস্টে দুবারই কোভিড-১৯ নেগেটিভ হওয়ায় চিকিৎসকরা তাদেরকে করোনামুক্ত ও সুস্থ ঘোষণা করে হাসপাতাল ত্যাগের ছাড়পত্র দেন।
হাসপাতাল ত্যাগ করার সময় বরাবরের মতোই করোনা প্রতিরোধের সম্মুখযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কয়েক ধাপে সুস্থ হলেন চার হাজারেরও বেশি করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্য। বিষয়টি পুলিশের সাধারন সদস্য, তাঁদের পরিবার, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, আক্রান্ত রোগীদের তদারককারী কর্মকর্তা ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জন্য স্বস্থির খবর হয়ে এসেছে। এমন খবর ছেপেছে ডিএমপি নিউজ।
একক পেশা হিসেবে এখন পর্যন্ত সাড়ে সাত হাজারের বেশি আক্রান্ত হয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা। সুস্থ হয়েছেন তাঁদের অর্ধেকের বেশি। মৃত্যুবরণ করেছেন ২৬ জন। জনগণকে নিরাপদ রাখতে সম্ভাব্য সবকিছু করেই ফ্রন্ট-ফাইটার বা সম্মুখ যোদ্ধা খেতাব পেয়েছেন পুলিশের অকুতোভয় সদস্যরা।
এ পর্যন্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ১৯৭৭ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন । সুস্থ হয়েছেন ১৩৭৭, চিকিৎসাধীন আছেন ৫৮৭ এবং করোনা যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৩ জন বীর যোদ্ধা।