সাইবার তথা আধুনিক অপরাধের ফাঁদ থেকে রাষ্ট্র ও জনগণের জান-মাল এবং সম্পদের নিরাপত্তা বিধানে দরকারী আইন করে সংসদে মডার্ন নিরাপত্তা বিল, ২০১৮ সংশোধিত আকারে পাস করা হয়েছে।
বুধবার ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। সংবাদ বাসসের
বিলে আইন করা হয়ে যায় যে, এর কোনো আইনের সঙ্গে অন্য কোনো নিয়মের কোনো বিধান অসামঞ্জস্য হয়, তাহলে অন্য কোনো আইনের আইনের সাথে যতটুকু অসামঞ্জস্য হয়ে যায় ততটুকুর ক্ষেত্রে প্রবর্তিত বিলের বিধান কার্যকর হবে।
বিলে বিধান করা হয়ে যায় যে, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রের বাইরে বিলের আইনের আয়ত্ত কোনো অপরাধ সংঘটন করলে তা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গিয়েছে বলে হবে।
বিলে বিধান করা হয়, কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের বাইরে হতে দেশে অধিষ্ঠিত কোন কম্পিউটার, পিসি সিস্টেম বা পিসি নেটওয়ার্কের সাহায্যে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে প্রবর্তিত বিধানের অধীন কোন ক্রাইম সংঘটন করলে ওই ক্রাইম কান্ট্রিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলা হয় বিবেচিত হবে। এছাড়াও কোন মানুষ বাংলাদেশের অভ্যন্তর হতে দেশের বাইরে এই আইনের আয়ত্ত কোন ক্রাইম সংঘটন করেন তাহলে সে অপরাধের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া কান্ট্রিতে সংঘটিত হয়ে গিয়েছে বলা হয় বিবেচিত হবে।
বিলে আধুনিক সিকিউরিটি কোম্পানী গঠনের আইন করা হয়েছে। এর সর্বশ্রেষ্ঠ কার্যালয় ঢাকায় এবং দরকারে ঢাকার বাইরে দেশের যে কোনো স্থানে এর শাখা অফিস স্থাপনের বিধান করা হয়।
বিলে এজেন্সির মহাপরিচালক নিয়োগ ও তার দায়িত্ব, কর্তব্য, ক্ষমতা এবং জনবল কাঠামোসহ আদার্স বিষয়ে বিধান করা হয়েছে।
বিলে আইন করা হয়, মহাপরিচালকের নিজ অধিক্ষেত্রভুক্ত কোনো ব্যাপারে মডার্ন মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো তথ্য-উপাত্ত আধুনিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি সৃষ্টি করলে উনি ওই তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ক্ষেত্রমতে, ব্লক করার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) বায়না করার জন্য পারবেন।
বিলে বিধান করা হয়, যদি আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে প্রতীয়মান হয়ে যায় যে, মডার্ন মাধ্যমে পাবলিশ করা বা প্রচারিত কোনো তথ্য-উপাত্ত রাষ্ট্রের বা এর কোনো অংশের সংহতি, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ বা জনশৃংখলা ক্ষুণ্ন করে বা বিদ্বেষ ও ঘৃণার সঞ্চার করে, তাহলে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ব্লক করার জন্য বিটিআরসিকে বায়না করতে পারবেন।
বিলে বিধান করা হয়, সার্বক্ষণিকভাবে রেসপন্সিবিলিটি পালনের জন্য এজেন্সির বশবর্তিতা একটি জাতীয় পিসি ইমার্জেন্সি রেসপন্স দল থাকবে। বিলে এ দলের কার্যক্রম, দায়িত্ব, ক্ষমতা ইত্যাদির বিধান করা হয়।
বিলে একের অধিক মডার্ন ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন এর মাননিয়ন্ত্রণে দরকারী আয়োজন নেয়ার বিধান করা হয়।
বিলে একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ১১ মেম্বারের মডার্ন সিকিউরিটি কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়। বিলে কাউন্সিলের ক্ষমতা, দায়িত্ব, সভা অনুষ্ঠান প্রভৃতি বিষয়ে নির্দিষ্ট আইন করা হয়।
বিলে বিধান করা হয়ে যায় যে, রাষ্ট্রশাসক বিভাগ গেজেট বিজ্ঞপ্তির দ্বারা কোনো পিসি সিস্টেম, নেটওয়ার্ক বা তথ্য পরিকাঠামোকে তাৎপর্যপূর্ণ ইনফরমেশন পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে।
বিলে আইন করা হয় যে, মহাপরিচালক এ আইনের বিধানাবলী যথাযথভাবে প্রতিপালিত হলো কিনা তা শিওর করার জন্য প্রয়োজনে, কোনো তাৎপর্যপূর্ণ ইনফরমেশন পরিকাঠামো পরিবীক্ষণ এবং পরিভ্রমণ করবেন এবং এতদ্বসংক্রান্ত প্রতিবেদন রাষ্ট্রের কাছে পেশ করবেন।
বিলে সাইবার বা মডার্ন অপরাধের জন্য নির্দিষ্ট দন্ডের বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলের বিধান লংঘনজনিত এই ক্রাইমের জন্য ধরন বিশেষে ১, ৩, ৫, ৬, ৭, ১৪ বছর ও যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৩ লাখ, ৫ লাখ ১০ লাখ ২৫ লাখ ১ কোটি, ৫ কোটি টাকা অর্থদন্ডের বিধান করা হয়েছে।
বিলে যে সব সাইবার ক্রাইমের জন্য দন্ড ও অর্থদণ্ডের আইন করা হয়ে গিয়েছে তা হলো, পিসি উৎস কোড বদলানো জনিত অপরাধ, মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে কোনো প্রকারভেদ প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণা, ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক জালিয়াতি, আধুনিক বা ইলেকট্রনিক প্রতারণা, পরিচয় প্রতারণা বা ছদ্মবেশ ধারণ, আক্রমণাত্মক, গুজব বা ত্রাস প্রদর্শক, তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ ইত্যাদি, অনুমতি ব্যতিত পরিচিতি ইনফরমেশন সংগ্রহ, ব্যবহার, ইত্যাদির দন্ড, সাইবার সন্ত্রাসী কার্য সংঘটনের ক্রাইম ও দন্ড, ওয়েবসাইট বা কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতি ক্ষত করে এমন কোনো ইনফরমেশন প্রকাশ, সম্প্রচার, ইত্যাদি, মানহানিকর তথ্য প্রকাশ, সম্প্রচার, ইত্যাদি, আইনানুগ দখল বহির্ভূত ই-ট্রানজেকশনের ক্রাইম ও দন্ড, আইন-শৃংখলার অধোগতি ঘটানো, প্রভৃতি অপরাধ এবং দন্ড, কম্পিউটার বা আধুনিক রহস্যসন্ধানী বৃত্তির অপরাধ এবং দণ্ড, বে-আইনিভাবে তথ্য-উপাত্ত ধারণ, স্থানান্তর, প্রভৃতি দণ্ড, হ্যাকিং জনিত অপরাধ ও দণ্ড, ক্রাইম সংঘটনে সহযোগিতা এবং এর দণ্ড ও কোম্পানী দ্বারা ক্রাইম সংঘটন।
বিলে ক্ষতিপূরণের আদেশ, পরিসেবা প্রদানকারীকে দায়ী না করারও বিধান করা হয়।
বিলে ক্রাইম তদন্ত, তদন্তের সময়সীমা, তদন্তকারী কর্মকর্তার ক্ষমতা, পরোয়ানার মাধ্যমে তল্লাশি, পরোয়ানা ব্যতীত তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতার, ইনফরমেশন সংরক্ষণ, কম্পিউটারের কমন ব্যবহার ব্যাহত না করা, তল্লাশি পদ্ধতি, তদন্তে সহযোগিতা আইন প্রণয়নের ক্ষমতাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান করা হয়েছে।
জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, কাজী ফিরোজ রশীদ, সেলিম উদ্দিন, মোহাম্মদ নোমান, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বেগম রওশন আরা মান্নান এবং বেগম নূর-ই- হাসনা লিলি চৌধুরী বিলের উপর জনমত যাচাই, বাছাই সভায় প্রেরণ এবং সংশোধনী প্রস্তাব আনলে ১টি সংশোধনী বরণ করা হয়। বাকী প্রস্তাবগুলো কন্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
আলোচিত বিডিআর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কাহিনি আজও অনুদ্ঘাটিত রয়ে গেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরেও সেই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের…
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামীম মোল্লাকে হত্যার ভিডিও ফুটেজে ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মীকে শনাক্ত করা গেছে। ভিডিওতে…
সাইমন সাদিক, ফ্রিল্যান্সিংয়ের যাত্রা শুরু করেন ২০১৮ সাল থেকে। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে এবং বাইরে সফলতার সাথে…
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আরো একটি নতুন কন্টিনজেন্ট ‘বাংলাদেশ আর্মড হেলিকপ্টার ইউনিট’ এর ১ম দল গণতান্ত্রিক কঙ্গো…
পুনরায় নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর…
রিয়াদ প্রতিনিধি- ১০জানুয়ারী বুধবার স্হানীয় সময় রাত সাড়ে ১০ঘটিকায় হোটেল ডি-প্যালেসে রিয়াদ মহানগর বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন,…
Leave a Comment