৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রনোদনার সিংহভাগ সরাসরি কৃষক, শ্রমজীবি, ক্ষুদে ও মধ্য বিনিয়োগকারীদের দেয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। প্রনোদনার সিংহভাগ সরাসরি কৃষক, শ্রমজীবি, ক্ষুদে ও মধ্য বিনিয়োগকারীদের দিলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কাজটি সবচেয়ে সহজে, সবচেয়ে দ্রুত, সবচেয়ে জনকল্যাণমুলক ও নিশ্চিতভাবে সম্ভব হবে মনে করে সিপিবি।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র কভিড-১৯ রেসপন্স টিমের প্রত্যাহিক টেলি সভায় প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলে সিপিবির নেতৃবৃন্দ। কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অংশ নেন সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম, টিমের সমন্বয়ক ও সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড লক্ষী চক্রবর্তী, আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, সম্পাদক কমরেড আহসান হাবিব লাবলু, জলি তালুকদার ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড ডা. ফজলুর রহমান।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘করোনা ভাইরাস মহামারি’র কারণে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে তুলতে সরকার ৭২,৭৫০ কোটি টাকার প্রনোদনা প্যাকেজের কথা ঘোষনা করেছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি , অর্থনীতির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হলে তাদের উপরেই প্রধানতঃ নির্ভর করতে হবে। তাই, প্রনোদনা প্যাকেজের প্রধান অংশ সরাসরি তাদেরকেই দিতে হবে।
তারা বলেন, আমাদের দেশের অর্থনীতি টিকে আছে প্রধানতঃ সমাজের তিনটি অংশ মেহনতি কৃষক, গার্মেন্টসহ শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষ, প্রবাসী শ্রমিক কর্মচারীদের অবদানে। সুতরাং ‘করোনা মহামারি জনিত’ অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সরকার ঘোষিত ৭২,৭৫০ কোটি টাকার প্রনোদনা প্যাকেজের সিংহ ভাগ সরাসরি তাদেরকে দিতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, যারা বলেন ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে বিনিয়োগকারীদের প্রনোদনা দিতে হবে তাদের জানা উচিত হাজার-হাজার কোটি টাকার মালিক ‘ব্যাক্তিখাতের’ লুটেরা বিত্তবানরাই কেবল বিনিয়োগকারী নয়। দেশের সবচেয়ে বড় ‘ব্যক্তিখাত’ হলো ‘কৃষি’ এবং সবচেয়ে বড় ‘বিনিয়োগকারী’ হলো দেশের কোটি কোটি কৃষক। সে কারণে প্রনোদনার বড় অংশ কৃষি ও কৃষকেরই প্রাপ্য।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের দেশে অর্থনীতির একটি বড় অংশ ‘স্বনিয়োজিত’ ও ‘ক্ষুদে’ বিনিয়োগের বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। কৃষি ও স্বনিয়োজিত ক্ষুদে বিনিয়োগকারীরা মোট বিনিয়োগকারীর সংখ্যাগরিষ্ঠ। সেই সাথে গার্মেন্টসহ শ্রমজীবীদের যুক্ত করলে, এরাই হবে সংখ্যায় দেশের জনসংখ্যার ৯০ শতাংশের বেশি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ৯০ শতাংশ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারার ওপরই নির্ভর করবে অর্থনীতির চাংগা হয়ে ওঠা। প্রনোদনার টাকার সিংহভাগ এদেরকে দিতে পারলেই ‘করোনা ভাইরাস মহামারি’ জনিত অর্থনৈতক ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার কাজটি সবচেয়ে সহজে, সবচেয়ে দ্রুত, সবচেয়ে জনকল্যানমুলকভাবে ও সবচেয়ে নিশ্চিতভাবে সম্ভব হবে।
তারা বলেন, অর্থনৈতিক শক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য ‘উদ্যোক্তা শ্রেনির’ মাঝারী বিনিয়োগকারীদেরও ভুমিকা পালনের সুযোগ আছে। তাদেরও প্রনোদনার অর্থ দিলে তা কাজে আসবে।
নেতৃবৃন্দ সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রনোদনার ৭২,৭৫০ কোটি টাকার সিংহভাগ সরাসরি কৃষক, শ্রমজীবি, ক্ষুদে ও মধ্য বিনিয়োগকারীদের না দিয়ে যদি তা হাজার-হাজার কোটি টাকার মালিক লুটেরা ধনিকদের দেয়া হয়, তাহলে সে টাকার বেশিরভাগটাই তারা বিদেশে পাচার করে দিবে, অথবা এবং ভোগ-বিলাসে অপচয় করবে।