বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২০
সাম্প্রতিক শিরোনাম

আজ বুধবার, ২৮শে অক্টোবর ২০২০
১২ই কার্তিক ১৪২৭, ১০ই রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আইনের বাধ্যকতা থাকায় শেয়ারবাজারে আসবো : এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের সিইও

টাকা উত্তোলন করার জন্য নয়, ইন্সুরেন্স কোম্পানি আইনে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার বাধ্যকতা থাকায় আমরা শেয়ারবাজারে আসবো। যদি বাধ্যকতা না থাকতো তাহলে শেয়ারবাজারে আসতাম না বলে মন্তব্য করেন এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা (সিইও) সাইদুর রহমান।

সিইও বলেন, এই মুহূর্তে টাকা উত্তোলন করার কোন প্রয়োজন কোম্পানির নেই। কোম্পানির কোন ব্যবসা বা কোন বিনিয়োগ নেই যে টাকা উত্তোলন করে খরচ করা হবে। শুধুমাত্র ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি আইনের বাধ্যকতা থাকায় এবং সরকারের পক্ষ থেকে তালিকাভুক্ত হওয়ার চাপ থাকায় আমরা শেয়ারবাজারে আসবো।

তিনি বলেন, কোম্পানির কোন জমি ব্যবসা নেই বা কোন মেশিনারিজ কেনার প্রয়োজন নেই। কোম্পানির কাছে বর্তমানে যা আছে তা হলো নগদ অর্থ, আর সেই অর্থ ব্যাংকে এফডিআর করে রাখা আছে। ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির আইনেও বলা আছে মূলধন এর সকল টাকা এফডিআর করে রাখতে হবে। এবং কোম্পানির এফডিআর এর হিসাবের সাথে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট রেগুলেটর অথরিটির (আইডিআরএ) সম্পৃক্ততা থাকবে। আইডিআরএ এফডিআর হিসাব নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

সাইদুর রহমান বলেন, কোম্পানির বর্তমানে দুজন স্বতন্ত্র পরিচালক আছে। কারণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির আইনে দুজন স্বতন্ত্র পরিচালকের নিয়োগের বিষয়ে বলা হয়েছে। তাই আমরা দুজনের বেশি স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেইনি। আর এ বিষয়ে আমরা কোন আইন লংঘন করিনি, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি আইনে যা বলা হয়েছে সেটাই মেনে কাজ করেছি।

তিনি বলেন, বর্তমানে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের সঠিক সময়। সেই সাথে বাজারে তারল্য সংকট রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের একটি শর্ত দেয়। শর্ত অনুযায়ী আইপিও থেকে উত্তোলিত অর্থের ২৫% আমরা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করব। বাকি অর্থ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি আইন অনুযায়ী এফডিআর করে রাখবো।

তিনি আরো বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) গত ৪/৫ বছরে কোন কোম্পানির জন্য সুপারিশ করেনি। কিন্তু ডিএসই এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স এর জন্য বিএসইসির নিকট সুপারিশ করেছে। এছাড়া আমরা গত কয়েক বছর ধরে নগদ লভ্যাংশ দিয়ে আসছি। এবং কোম্পানির শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ১৮ টাকার বেশি হওয়ার পরেও আমরা প্রিমিয়ামের জন্য সুপারিশ করিনি।

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন পাওয়া এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আবেদন গ্রহণের তারিখ পূণ:রায় নির্ধারন করা হয়েছে।  আগামি ১৪ জুন থেকে আবেদন শুরু হয়ে চলবে ১৮ জুন পর্যন্ত।  এর আগে কোম্পানিটির আইপিওতে গত ১৩ এপ্রিল আবেদন গ্রহণ শুরু করার জন্য নির্ধারন করা হয়েছিল। তবে করোনাভাইরাস ইস্যুতে দেশের শেয়ারবাজার ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকার কারনে আবেদন গ্রহণ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৭১৯তম সভায় কোম্পানিটিকে আইপিওর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে ২ কোটি ৬০ লাখ ৭৯ হাজার সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ২৬ কোটি ৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন করবে। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। উত্তোলিত অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি ট্রেজারি বন্ড ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী কোম্পানিটির বিগত ৫ বছরে ভারিত গড় হারে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১.৪২ টাকা এবং পুনমূল্যায়নসহ শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৮.৭২ টাকায়। যা পুনমূল্যায়ন ছাড়া ১৬.৬৫ টাকা।

কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে এএএ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, আইআইডিএফসি ক্যাপিটাল এবং বিএলআই ক্যাপিটাল লিমিটেড।

সর্বশেষ খবর

জনপ্রিয় খবর