মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১, ২০২০
সাম্প্রতিক শিরোনাম

আজ মঙ্গলবার, ১লা ডিসেম্বর ২০২০
১৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৫ই রবিউস সানি ১৪৪২

মহাকাশযান ও মানব সভ্যতা

১৯৬৯ সালে মানব জাতি চন্দ্র বিজয় করলেও এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও উন্নত মানব সভ্যতা আজো পর্যন্ত মহাকাশ যানে চড়ে সর্বোচ্চ ৪ লক্ষ কিলোমিটারের অধিক দূরত্ব অতিক্রম করতে পারেনি। মনে করা হয় সৌরজগতের সীমানার বাহিরে পা দিতে আমাদের এখনো ২১৫০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। বিশেষ করে এখনো পর্যন্ত কিন্তু অসীম মহাকাশে সাবলীলভাবে ছুটে চলার উপযুক্ত সুপার হাইব্রিড স্পেসক্রাফট ডিজাইন করা সম্ভব হয় নি। হয়ত নতুন প্রযুক্তির সুপার হাইব্রিড স্পেসক্রাফট সার্ভিসে আসতে আমাদের পৃথিবীর বিজ্ঞনীদের ২২০০ সাল পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।

তাছাড়া আমাদের সোলার সিস্টেমের ৪.২৭ আলোকবর্ষ দূরের পাশ্ববর্তী প্রক্সিমা সেঞ্চুরাই সোলার সিস্টেমে থাকা প্রক্সিমা-বি গ্রহে নভোচারীসহ স্পেস্ক্রাফট পাঠানো আদৌও কোনদিন সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থাকলেও উচ্চ প্রযুক্তির টেলিস্কোপ দিয়ে শত কিংবা হাজারো আলোকবর্ষ দূরের মহাজাগতিক ঘটনা এবং নতুন নতুন গ্যালাক্সি, নিহারিকা ও সোলার সিস্টেম পর্যবেক্ষণ করার মতো উচ্চ প্রযুক্তি মানবজাতি ইতোমধ্যেই অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে এবং তা প্রতিনিয়ত আরও উন্নত পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন -  কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ ও প্রতিকার

তবে মানবজাতির হাতে থাকা বর্তমান প্রযুক্তি দিয়ে হাজারো আলোকবর্ষ দূরে চলমান অসংখ্য মহাজাগতিক ঘটনা বা উপাদান এবং বিশেষ করে অতি ভয়ানক ব্লাকহোলে বাস্তবে কি হচ্ছে তা কিছুটা অনুমান করা ছাড়া আমাদের বাস্তবে আর কিছুই করার থাকে না। তাছাড়া মানব সভ্যতা নিজেকে যতই আধুনিক মনে করুক না কেন বর্তমান প্রযুক্তি দিয়ে অসীম মহাকাশের মাত্র ০.০০০০০০০০০০০০০১% বা তারও অনেক কম এলাকা বা মহাজাগতিক ঘটনা আমরা এক্সপ্লোর করতে সক্ষম।

আরও পড়ুন -  কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ ও প্রতিকার

তবে আক্ষেপ যে, মানবজাতির এই মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন কিংবা উন্নয়নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি, জাপান, চীন, ভারত, ইসরায়েল, দক্ষিণ কোরিয়া নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যাপকভাবে এগিয়ে গেলেও মুসলিম বিশ্বের ১.৭৮ বিলিয়ন সুবিশাল জনসংখ্যার ৬০ এর কাছাকাছি দেশ থাকা সত্ত্বেও শুধু ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত গবেষণার সুযোগ না থাকায় কোন মুসলিম দেশই আজো মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বৈশ্বিক পর্যায়ের নিজেদের যোগ্য স্থান করে নিতে পারে নি। তবে আমি প্রবলভাবে আশাবাদী যে, আগামী দুই দশকের মধ্যেই তুরস্ক ও বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের বেশকিছু দেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে নিজের যোগ্যতায় বিশ্বের প্রথম সারির উন্নত দেশগুলোর পর্যায়ে পৌঁছে যাবে।

সর্বশেষ খবর

জনপ্রিয় খবর