সাম্প্রতিক শিরোনাম

যাদের বিশ্বাসঘাতকতায় শত বছরেও ঝরছে ফিলিস্তিনিদের রক্ত

ইসরায়েলি বর্বরতার তাণ্ডবে লাশের উপর লাশ দিয়ে মৃত্যুস্তুপ বানানো হয় যা আমাদের প্রাণস্পন্দন, ক্রঁন্দন, আত্মার আকুতি, হৃদয়ের মিনতি এবং মানবতার সংহতিকে বার বার ক্ষত-বিক্ষত, কলুষিত করে দুনিয়ার আকাশকে আর্তনাদে ভারী করে তুলেছে।১৮৯৭ সালে ‘Theodor Herzel’ ও ‘Max Nordau’ এর হাত ধরেই ইহুদিবাদ ও ইহুদিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সাংগঠনিক রূপরেখা সবকিছু পায়। ১৯১৬ সাল পর্যন্ত পবিত্র জেরুজালেম শুধু উসমানীয় সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উসমানীয়দের পরাজয়ের কারণে সম্পূর্ণ ফিলিস্তিন ১৯১৭-১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশদের অধীনে ছিল। ১৯১৭ সালের নভেম্বর মাসে জেরুজালেম দখল করে ইংরেজরা। ইহুদিদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য ব্রিটেন চেয়েছিল ইহুদিদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র গঠন করতে। আর, সে জন্য ব্রিটিশ (তৎকালীন) পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড আর্থার জেমস বেলফোর ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ইহুদি আন্দোলনের নেতা বেরন রডস চাইল্ডকে চিঠি লিখেছিলেন। আর এটাকেই, ‘বেলফোর ডিক্লেয়ারেশন’ বলে। আর এই ‘বেলফোর ডিক্লেয়ারেশনই’ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এক ইহুদিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সাফল্যমণ্ডিত পদক্ষেপ।

গোটা ইউরোপে ইহুদিদের বসবাসছিল ছড়িয়ে ছিটিয়ে। আর এই বেলফোর ডিক্লেয়ারেশন এর জন্য ইউরোপ ছেড়ে ক্রমেই ব্রিটিশ অধীনস্ত ফিলিস্তিনের দিকে দলে দলে ইহুদিরা আসতে থাকে আর ভূমি ক্রয় করতে থাকে। ১৯৩০ সালের দিকে গাজা থেকে ২ মাইল দূরবর্তী কিবুটুস এলাকায় পোল্যান্ড থেকে আসা ইহুদিরা কৃষি খামার গড়ে তুলে।

তখন ফিলিস্তিনের মানুষ বুঝতে পারে তারা আস্তে আস্তে জমি হারাচ্ছে। আর ব্রিটিশরাও অল্প অল্প করে ইহুদিদের প্রত্যাবর্তন করতে থাকে তাদের ডিক্লেয়ারেশন অনুযায়ী। সময়টা তখন ১৯৩৩ সালের দিকে জার্মানিতে ইহুদি বিদ্বেষ চরমে আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্রিটিশরা অবাধে প্রবেশাধিকার দেয়,  হাজার হাজার ইহুদি যারা ইউরোপ ছেড়ে ফিলিস্তিনে আসতে থাকে আর ফিলিস্তিনের মানুষ এটা খুব ভালো করে উপলব্ধি করে এবং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধো পূর্ণাঙ্গ বিদ্রোহ করে।ফিলিস্তিনের এই বিদ্রোহ  কঠোর হস্তে ব্রিটিশরা দমন করে আর এতটা নির্মমভাবে দমন-পীড়ন করে আনুগত্যশীল আরবদের মধ্যেই ভাঙন শুরু হয় কিন্তু ব্রিটিশ ও ইহুদি জোট অঙ্গীকার বদ্ধ ছিল এবং বদ্ধপরিকর ছিল ইহুদি রাষ্ট্র গঠনে। ১৯৩৯ সালের দিকে হিটলারের নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করার জন্য ব্রিটিশরা আরব-ইসরায়েলকে কূটনীতির জালে রেখে, আরবদেরকে আশ্বস্ত করে, আগামী ৫ বছর ফিলিস্তিনে ইহুদি আগমন কমিয়ে আনবে পক্ষান্তরে ৩২,০০০ ইহুদিকে ব্রিটিশ সেনা বাহিনীতে দাপ্তরিকভাবে নিয়োগ দিয়ে, তাদেরকে উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লাখ লাখ ইহুদি হত্যায় আরেক বাস্তবতার সৃষ্টি হয় যা ব্রিটেনের আকাঙ্ক্ষারই যেন প্রতিরূপ। ১৯৪৫ সালে বেঁচে যাওয়া ইহুদিদেরকে দিয়ে ফিলিস্তিনে আলাদা রাষ্ট্র গঠন করার জোরালো করে। যদিও একযুগ আগেই ব্রিটেনের উদেশ্য বাস্তয়নের লক্ষে ইহুদিদের স্থান্তরিত করা হয়েছিল। 

যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান ইসরায়েল রাষ্ট্রের পক্ষে প্রচণ্ড শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরে এবং আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে চাপ প্রয়োগ করে এক লক্ষের অধিক ইহুদিদের একত্রে ফিলিস্তিনে স্থান্তরিত করার জন্য কিন্তু ব্রিটেন তার রাজনৈতিক স্বার্থ লাভের জন্য ভাবল এত সংখ্যক ইহুদি এক সাথে স্থান্তরিত করলে গৃহযুদ্ধ আবশ্যক এবং এটা তাদেরকে আর্ন্তজাতিক রাজনীতিতে বিপাকে ফেলবে। আর, সে জন্য ১৯৩৯ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত  ইহুদি সৈন্যদের দিয়ে ফিলিস্তিনে আক্রমণ করায় এমনকি ফিলিস্তিনে অবস্থিত ব্রিটিশ স্থাপনার উপর আক্রমণ করে ইহুদিরা। এর ফলে ইউরোপ থেকে জাহাজ বোঝাই হয়ে সশস্ত্র আক্রমণ করে দলে দলে বেঁচে থাকা ইউরোপীয় ইহুদিরা।আর তখনি জরুরি ভিত্তিতে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে বহুল লালিত স্বপ্ন ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রস্তাব করে জাতিসংঘে। জাতিসংঘ তখন ফিলিস্তিন ভূখণ্ডকে দুই ভাগে ভাগ করে। এক অংশ ইহুদি যা ইসরায়েল, ভূমি ৫০% শতাংশ প্রদান করে কিন্তু ইহুদিদের ভূমি ছিল ১০ শতাংশ এবং ইহুদিরা তা মেনে নেয়। পক্ষান্তরে আরব ফিলিস্তিনের ৯০ শতাংশ মালিকানাধীন ভূমি ৪০ শতাংশ কর্তন করে ৫০ শতাংশ ভূমি আরব ফিলিস্তিনকে দেওয়া হয় আর জেরুজালেম আর্ন্তজাতিক নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আরব ফিলিস্তিনসহ আরব রাষ্ট্ররা মেনে নেয়নি।


কিন্তু বাস্তবিক অর্থে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম হয়ে যায় আর স্বীকৃত ভূমি পেয়ে যায়।তৎকালীন ফিলিস্তিনের নেতা আল-হোসাইনি  সিরিয়ায় গমন করে এবং স্বাধীন ফিলিস্তিনের লক্ষে অস্ত্র চায় কিন্তু ফিলিস্তিনের জনতার আবেদনে সাড়া দেয় নাই আরব রাষ্ট্র গুলা কারণ তারা চেয়েছিল পবিত্র নগরী তাদের অধীনে থাকবে। আল-হোসাইনি খালি হাতে ফিরে এসেছিল কিছু দিন পড়ে শাহাদৎবরণ করেন।১৯৪৮ সালের ১৪ ই ব্রিটিশরা সম্পূর্ণ ফিলিস্তিন ত্যাগ করে কারণ তাদের স্বার্থসাধন হয়েছে। আর, ব্রিটিশ সৈন্যদের ত্যাগের মাধ্যমে সার্বভৌম ইসরায়েল রাষ্ট্র পূর্ণতা পায় কিন্তু তার ১ ঘণ্টার মধ্যে ৫ আরব রাষ্ট্র মিশর, ইরাক, লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান আলাদা আলাদাভাবে আক্রমষ করে তার কারষ ছিল আরবরা একে অপরকে অবিশ্বাস করতো ও সমন্বয়হীনতা ছিল তাদের মধ্যে কিন্তু তাদের তীব্র আক্রমণে ইসরায়েল পিছু হটে যেখানে ইহুদি সৈন্য সংখ্যা ৩৫০০০, আর আরবীয় সৈন্য ছিল ৩০০০০ (সূত্র:বিবিসি)। আরব রাষ্ট্রগুলো এইভাবে আক্রমণ করলে পুরো তেল-আবিব দখল করতে পারতো কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের মাধ্যমে অস্ত্রবিরতি কার্যকর করে। আর এই যুদ্ধের আরবের দখলের ভূমি তাদের অধীনে নিয়ে নেয় জর্ডান নেয় পশ্চিম তীর আর মিশর গাজা উপত্যকা কিন্তু ইসরায়েলর আক্রমণে সাত লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুহারা হয় কিন্তু স্বাধীন ফিলিস্তিনিদের আলাদা সরকার ও তাদের সার্বভৌম সীমানাজ্ঞাপক কোনো কিছু করে নাই।

আরব রাষ্ট্র বরং গাজা ও পশ্চিম তীর তারা ভাগ করে নেয় এমনকি এই সাত লাখ ফিলিস্তিনি যারা তাদের ঘরছাড়া হয় তাদেরকেও ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয় নাই। সবচেয়ে উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনের ৫০০টি গ্রামের মধ্যে ৪০০টি গ্রামই জনশূন্য করে ফেলেছিল যার ফলে যুদ্ধ শেষে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলিদের অবাধ বিচরণ বাধাগ্রস্থ হয়নি।পক্ষন্তরে, তুরস্ক ন্যাটোতে যোগ দেয় ও যুক্তরাষ্ট্রীয় বলয়ে থেকে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় ও তাদের সাথে দূতাবাস স্থাপন করে মৈত্রী স্থাপন করে এবং ইরানীরাও ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়। আর এই যুদ্ধ বিরতি পর চেকেশ্লোচিয়ার কাছ থেকে ইসরায়েল আধুনিক স্ত্রের সহয়তা পায় এমনকি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্সে থেকে প্রযুক্তিগত সুবিধা নিয়ে প্রচণ্ড শক্তি সঞ্চয় করে এবং সামরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করে।১৯৪৮ সাল পরবর্তী গাজাতে ইখওয়ান দারুণ এক গণজাগরণ শুরু করে ইসরায়েলের বিপক্ষে কিন্তু ইখওয়ানের জন্ম ছিল হাসানুল বান্নার মুসলিম ব্রাডারহুড থেকে। আর যখন মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাসান আব্দুল্লাহ নাসের হাসানুল বান্নাকে ফাঁসি কার্যকর করে এবং এদের সমস্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে তখন ইখওয়ানের জন্ম যা ফিলিস্তিন, সুদান, ইরাক, সিরিয়াতে কার্যক্রম শুরু করে। ইখওয়ান ‘প্রতিরোধ আন্দোলনের’ শপথ নেয়। অন্য দিকে মিশরের সিনাই পর্বতে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষী বাহিনী মোতায়েন ছিল। আরব দেশগুলো অস্ত্র বিরতিতে তেমন একটা শক্তিশালী রূপ নিতে পারে নাই আর ইসরায়েল ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্রের সহয়তা অনন্য এক ক্ষমতাধরে পরিণত হয়। ১৯৬৫ সালে গাজার ‘দেইর আল বালাহ’ নামক এলাকায় ইসরায়েলি বাসে ফাতাহ কর্মীরা আক্রমণ করে। সে সময় গাজা ছিল মিশরীয় সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

মিশর কোনোভাবেই চাচ্ছিল না ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধে জড়াতে কারণ তারা ভালো করেই জানত তারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত না, ১৯৬৫ সালে কায়রোতে ফিলিস্তিনের ন্যাশানাল কাউন্সিলে জামাল নাসের বলেছিলেন, ‘আপনারা যদি মনে করেন ফিলিস্তিনকে স্বাধীন করার জন্য আমার কোনো পরিকল্পনা আছে, তাহলে এটা মিথ্যা বলা হবে’ (আল জাজিরা,২০০৪, ২৫ মার্চ)মিশর ইখওয়ানকে দায়ী করে দমন-পীড়ন শুরু করে। অন্যদিকে আল ফাতাহ শেখ আহমদ ইয়াসিনকে (ইখওয়ান নেতা) আরবের সাথে সমন্বিত যুদ্ধের জন্য আহ্বান জানায় কিন্তু তারা যুদ্ধের জন্য না করে দেয়।

আর বলে দেয় আরবরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত না যুদ্ধের সময় এখনো হয় নাই।আর এই ঘটনা কেন্দ্র করে যুদ্ধ শুরু আরব-ইসরায়েল, অন্যদিকে জামাল নাসের জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীকে সরিয়ে দেয় আর ভাবলো মিশরীয় সেনারা যারা গাজায় আছে তারাই মোকাবেলা করতে পারবে আবার সিনাই দিয়ে মিশরীয়রা আক্রমণ করবে কিন্তু বাস্তবতায় হার মানলো মিশরীয়রা। গাজাতো হারালো সাথে সাথে সিনাই পর্বত ইহুদিদের দখলে চলে যায়। ৬ দিনের যুদ্ধ জাতি সংঘের মাধ্যমে যুদ্ধ বিরতি হয়।পিএলও গঠিত হয় আল ফাতাহ থেকে যা মূলত জর্ডান থেকে পরিচালিত হয়। ১৯৭৭ সালে যখন লিকুদ পার্টি ক্ষমতায় আসে ইসরায়েলে তখন গাজায় রক্তধারায় আরও বেড়ে যায়। কিন্তু মিশর তখন মরিয়া কিভাবে তাদের সিনাই পর্বত নিজেদের করবে। তখনকার মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত লিকুদ পার্টির সাথে সমন্বয় করে ক্যাম্প-ডেভিড চুক্তি করে তাদের সিনাই পর্বত পুনঃউদ্ধার করেন এবং ইজরায়েলকে স্বীকৃতি প্রধান করে আর সবচেয়ে অবাক করে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ভাষণ দেন আর ফিলিস্তিনিদের রক্তের সাথে প্রতারণা করে আর নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়। যা ইখওয়ান নেতা আহমদ ইয়াসিন ১৯৭৩ সালেই বলেছিল। আর এই ইখওয়ান থেকেই হামাস এর জন্ম।


পরবর্তীতে ইয়াসির আরাফাত যিনি মূলত আল ফাতাহ নেতা ১৯৯৩ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে অসলো চুক্তি-১ সই হয়, এবং তার ধারাবাহিকতায় মিশরের তাবায় ১৯৯৫ সালে অসলো চুক্তি-২ স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে স্থির হয়, পশ্চিমতীর ও গাজা উপত্যকা থেকে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী পর্যায়ক্রমে সরে যাবে কিন্তু পশ্চিম তীরকে ৩ ভাগ করে, এক ভাগে ফিলিস্তিনি আরেক ভাগে ইসরায়েলে আর আরেক ভাগে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল যৌথ সরকার। পাঁচ বছরের জন্য ‘অন্তর্বর্তী স্বশাসিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ’ গঠিত হবে। এরপর জাতিসংঘের  ২৪২ ও ৩৩৮ প্রস্তাবের ভিত্তিতে স্থায়ী সমাধান হবে। এর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে লিখিত না হলেও এ ইঙ্গিত থাকে যে একদিন ইসরায়েলের পাশে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠিত হবে এবং পিএলও ইসরায়েলেকে স্বীকৃতি প্রদান করে যার জন্য ইয়াসির আরাফাত, আইজাক রবিনও শিমন পেরেজ (ইসরায়েলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী) যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

যা ফিলিস্তিনের মানুষ মেনে নিতে পারে নাই। তাদের সাথে বেঈমানি আর প্রতারণা হয়েছেই বলে তারা বিবেচনা করে।বাস্তবিক অর্থেই ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে সবাই বড় বড় কথা বলবে, মুসলিম চোখে ত্রাণকর্তা হিসাবে আবির্ভূত হবে কিন্তু কার্যত কেউ তাদের পক্ষে অবস্থান নিবে না। হামাস একাই লড়ে যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ২০০৫ সালে ফিলিস্তিনের নির্বাচনে হামাস জয়ী হলেও মেনে নিবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিল, তাদেরকে সস্ত্রাসী হিসাবে অখ্যায়িত করেছিল। কিন্তু হামাস জয় লাভ করে সরকার গঠন করে। মিশরের শহীদ মুরসি ক্ষমতায় থাকাকালীন হামাসকে সিনাই পর্বত দিয়ে সহয়তা দিয়েছিল কিন্তু বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ বিপরীত তারা বরং সমস্ত সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে। সুদান ও সিনাই পর্বতের রোড ব্যবহার করে গোপনে ইরানের সহায়তায় অস্ত্রের চালান পায় হামাস।অন্যদিকে তুরস্কে, তুর্কিমেনিস্থানে, জর্ডানে, মিশরে খুব ভালোভাবেই দখলদার ইসরায়েলি অ্যাম্বাসির কার্যক্রম চলছে। এরা ইসরায়েল নামের রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে দখদার ইসরায়েল বলতে পারে নাই এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান রেখেছে। যেখানে বাংলাদেশের মত দেশ এখনও দখলদার ইসরায়েলের সাথে সমস্ত সম্পর্ক নিষিদ্ধ করে ফিলিস্তিনিদেরকে আমাদের প্রাণে বসিয়েছে যা এক অনন্য সত্যের প্রতীক।
আমরা গর্বিত, আমরা সাহসী, আমরা নির্ভীক, আমরা বাঙালি কিন্তু আমরা প্রতারক নই আরবীয়-তুর্কিদের মত, আমরা মুসলিম কিন্তু আমরা প্রতারক মুসলিম নই আরবী-তুর্কিদের মত।


আরব-তুর্কি-ইরানের উপর ফিলিস্তিন যে আশা করেছিল তা কোনো দিন বাস্তবায়ন করে নাই, প্রতারণা ছাড়া আর ফাঁকা বুলি ছাড়া এরা কিছু করবে না এটা ইসরায়েল যেমন ভালো করে জানে ঠিক তেমনি ফিলিস্তিরাও জানে, এই প্রতারকরা এখনো মুসলিম বিশ্বে সেন্টিমেন্ট নিয়ে প্রতারণা করে যাচ্ছে যাদের কর্মফলের জন্য ইউফ্রেটিস থেকে নীল নদ রক্তে বহমান প্রবাহিত । আর আর্ন্তজাতিক বৈশ্বিক কূটনীতির কূটফল আজকের মানবতাহীন বর্বরতার এক ধ্বংসলীলায় রক্তাক্ত ফিলিস্তিন।

লেখক: মো. মঞ্জুরুল হক ফাহিম, কান্ট্রি এম্বাসেডর, ইউনিভারসাল ইয়ুথ মুভমেন্ট, সূত্রঃ সময় নিউজ।

সর্বশেষ

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রামে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক-২

ঈশাত জামান মুন্না, লালমনিরহাট: জেলার পাটগ্রামের দহগ্রামে অনুপ্রবেশের দায়ে দুইজনকে আটক করেছেন বডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা।আজ শনিবার (২ অক্টোবর) সকালে পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম...

হাতিবান্ধায় নিজ বাড়ির সামনে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

ঈশাত জামান মুন্না, লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় আব্দুল মালেক (৪২) নামে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যার খবর পাওয়া গেছে।রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর)...

মালিতে ১৪০ জন পুলিশ সদস্যের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক লাভ

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষার কাজে অসামান্য অবদান এবং পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের জন্য মালির রাজধানী বামাকোতে বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ)-এর ১৪০ জন সদস্যকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদকে ভূষিত...

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে চোরাই অটোরিকশা সহ গ্রেফতার-১

ঈশাত জামান মুন্না, লালমনিরহাট : জেলার আদিতমারী থানায় একটি চুরি যাওয়া অটোরিকশা উদ্ধার করেছে আদিতমারী থানা পুলিশ সেইসাথে অটোরিকশা চোরকেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।গ্রেফতারকৃত...